সম্পাদকীয়

দুধের মান নিয়ে রশি টানাটানির অবসান হোক

 

দেশের বাজারে বিদ্যমান খাদ্যপণ্যে ভেজাল এবং নি¤œমান নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। বিশেষত খাদ্যে ভেজাল এবং রাসায়নিকসহ ক্ষতিকর উপাদান মেশানো জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের গবেষণায় দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ ক্ষতিকর নানা উপাদান মিলেছে, যা জনমনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। অথচ সমস্যার সমাধান না করে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছেন নীতিনির্ধারকরা, যা কাম্য নয়। খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে। ওই গবেষণার ভিত্তিতে আরও গবেষণা করে দুধে কোনো ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেত। উদ্বেগজনক ব্যাপার হলো, এমন পরীক্ষা করার সক্ষমতা বিএসটিআইয়ের নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষার সক্ষমতা নেই বিএসটিআই’র’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতিসহ মান পরীক্ষার সক্ষমতা বিএসটিআই’র নেই বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছেন সংস্থাটির আইনজীবী। অথচ এই সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে দুধের মতো খাদ্যপণ্য বাজারে ছাড়ে কোম্পানিগুলো। সেক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা যদি না থাকে, তাহলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি তৈরি হবে। বিএসটিআই’র মতো সংস্থার এমন সীমাবদ্ধতা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
অন্যদিকে ‘চার সংস্থার ল্যাবে পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের’ শিরোনামে অপর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে থাকা বিএসটিআই অনুমোদিত বিভিন্ন কোম্পানির পাস্তুরিত (প্যাকেটজাত) দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ ক্ষতিকর কোনো উপাদান আছে কি না, তা চারটি সংস্থার ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিএসটিআই’র আইনজীবী জানিয়েছেন, আরও অনেক মাধ্যমের পাশাপাশি অনেকে গরু মোটাতাজাকরণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। সেখান থেকেও এর প্রবেশ ঘটে। এজন্য দুধের অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষা করার প্যারামিটার বিএসটিআই’তে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি ইতিবাচক। এর মাধ্যমে নিরাপদ দুধপ্রাপ্তির পথ সুগম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নেতৃত্বে যে গবেষণা হয়েছে তার ফল ভয়াবহ। কিন্তু সে অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো দোষারোপের পথ বেছে নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। ওই পথ পরিহার করে আরও উন্নত গবেষণার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দুধসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্য নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে খাদ্যের মান নিশ্চিতে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */