দুবছরের মধ্যে প্রথম সংকুচিত হলো জাপানের অর্থনীতি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। গত দুই বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হলো। বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি ব্যয় কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ১৯৮০ সালের পর দেশটিতে টানা প্রবৃদ্ধি হয়ে আসছিল। খবর বিবিসি।
প্রতিবেদন মতে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে জাপানের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ছয় শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। পূর্বাভাসের তুলনায়ও এ সংকোচন বেশি। পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল দশমিক দুই শতাংশ সংকুচিত হবে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় অবশ্য অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে দশমিক দুই শতাংশ। ২০১৭ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জাপানের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল দশমিক এক শতাংশ।
উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথম প্রান্তিকে জাপানে বেসরকারি বিনিয়োগ ও মূলধন ব্যয় কমেছে, যা সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জাপানের অর্থনীতির ৬০ শতাংশই নির্ভর করে বেসরকারি খরচের ওপর। তবে ইলেকট্রনিকস ও অন্যান্য পণ্য রফতানিও দেশটির অর্থনীতির অন্যতম মানদণ্ড নির্দেশক।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, ইলেকট্রনিক পণ্যে বিশ্বব্যাপী চাহিদা হ্রাস এবং প্রান্তিকের পুরো সময়টায় খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে আগামী প্রান্তিকগুলোতে এ অবস্থা থেকে জাপানের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তারা।
এসএমবিসি নিক্কো সিকিউরিটির অর্থনীতিবিদ ইয়োশিমাসা মারুইয়ামা বলেন, বিশ্বব্যাপী আইটি-সম্পর্কিত পণ্যের চাহিদা কিছুটা কম ছিল। এ কারণে প্রথম প্রান্তিকে জাপানের কারখানা উৎপাদন ও রফতানি ছিল তুলনামূলক কম। এজন্য দেশটির অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনও শক্ত অবস্থানে আছে। তাই জাপানের রফতানি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা আছে। আর সেটা হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ঘুড়ে দাঁড়াবে।
তবে কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনায় বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক মনোভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণে জাপানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের খরচ কমিয়ে দিয়েছে। এ প্রবণতা শিগগিরই পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন না তারা।
শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেজিরো তাকেশিতা বলেন, গোটা বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সংরক্ষণবাদ নীতির কারণে ইয়েনের শক্তিশালী অবস্থানের ক্ষেত্রে জাপানের করপোরেশনগুলো বিনিয়োগ থেকে সরে আসছে। এতে মূলধন ব্যয় কমে গেছে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, আবারও এ রকম নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেটা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।