দুরবস্থার বড় কারণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক অনুমোদন

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আপত্তি সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক। দেওয়ার পর এসব ব্যাংক পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়ে আর্থিক খাতে উদ্বেগের জš§ দিচ্ছে। আর এসব ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে বড় অঙ্কের বেইল আউট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পুঁজিবাজার কোনো একক ব্যাংকের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে এমন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হচ্ছে। এমন বক্তব্য উঠে আসে গতকাল এনটিভি মার্কেট ওয়াচে। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এমএস সেকিল চৌধুরী এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মো. ফোরকান উদ্দিন, এফসিএ।

এমএস সেকিল চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাতে যে ছেলেখেলা হচ্ছে তা দেশের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। এ খাতে এমন হওয়ার প্রথম কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের আপত্তি সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক দেওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সে সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকগুলো দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর নিজেও এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং আর্থিক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে আপত্তি করেছিলেন। বর্তমানে আরও তিনটি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। লক্ষ করলে দেখবেন, এখন ব্যাংক দেওয়ার ব্যাপারে যারা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের হাতে আর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নেই। শোনা যাচ্ছে, এ বিষয়টি ওপরপর্যায় থেকে আসে এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণকারীরা এটিকে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেজন্য কাজ করেন। আর এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে, তার দায় সরকারের ওপর পড়বে। এ ব্যাপারে দলের ভেতরের কিছু লোক সরাকারের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ফলে সামগ্রিকভাবে সরকার পরিচালনায় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারি দলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মো. ফোরকান উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাতের একটি ব্যাংককে বেল আউট করা হয়েছে। কিন্তু যখন পুঁজিবাজার ভুগছে বা ভুগছিল তখন এটিকে কেন বেল আউট করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে না। একটি খাতকে অবজ্ঞা করে দিয়ে যদি আমরা বিশেষ কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে বেল আউট করার চিন্তা করে থাকি তাহলে তা কতটুক যৌক্তিক? তাছাড়া পুঁজিবাজার খাতটির বাজারের ভূমিকা কী এবং বিশেষ ওই ব্যাংকটার বাজারে ভূমকা কীÑএ দুটি বিষয় যদি আমরা তুলনা করি তাহলে মাইনাস শতাংশও পড়বে না। ফলে মাইনাস শতাংশে যদি আমরা এক হাজার ১০০ কোটি টাকা বেল আউট দিতে পারি, তাহলে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া উচিত পুঁজিবাজারে। কারণ পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে যেভাবে ভূমিকা রাখছে, সেভাবে ওই ব্যাংকটি ভূমিকা রাখতে পারেনি।

তাছাড়া কী বুঝে ব্যাংকটিকে আমরা এক হাজার ১০০ কোটি টাকা দিচ্ছি, সেটাই চিন্তার বিষয়। তিনি বলেন, শোনা যায় বাংলাদেশ ব্যাংক তিন হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে আইসিবি থেকে। তারপরও আইসিবির কাছে প্রচুর পরিমাণে এফডিআর আছে। এই এফডিআর ভেঙে বেল আউট কার্যক্রমে দেওয়া কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখতে হবে। কারণ আইসিবির এ টাকাগুলো কি পুরাটাই সরকারের অর্থ নয়। এগুলো জনগণের ইউনিট ফান্ড বিক্রির টাকা। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণের টাকা কাকে এবং কেন একটি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে দিচ্ছি? কেন আমরা একটি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানকে এতগুলো টাকা দিতে যাব এবং এটি ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়। নীতিনির্ধারণের জায়গায় তাদের যারা উপদেষ্টা আছেন তারা কী বুঝে এ বেল আউট প্রোগ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন তা চিন্তার বিষয়।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম