দুর্নীতির সূচকে দুই ধাপ উন্নতি বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশে দুর্নীতি কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কর্তৃক প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে (সিপিআই) ২০১৭ অনুযায়ী ২০১৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান দুই ধাপ বেড়েছে।

গতকাল ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১৭তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৫তম। আর তার আগের বছর এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩তম। অর্থাৎ পরপর দুই বছর দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে। চলতি বছর একই স্কোর পেয়ে যৌথভাবে ১৭তম স্থানে রয়েছে গুয়াতেমালা, কেনিয়া, লেবানন ও মৌরিতানিয়া।

বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) সারা বিশ্বে একযোগে দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৭ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে তা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এক নম্বরে আছে সোমালিয়া। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। অন্যদিকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে আছে নিউজিল্যান্ড।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশের স্কোর ২৮। সূচকে মোট ১৮০টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে দুর্নীতি কমার চিত্র তুলে ধরা হলেও এখানে দুর্নীতির এখনও যে অবস্থান তা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে টিআইবি।

এদিকে গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ২৬ স্কোর পেয়ে ১৫তম অবস্থান, ২০১৫ সালে ২৫ পেয়ে ১৩তম, ২০১৪ সালে ২৬ পেয়ে ১৪তম, ২০১৩ সালে ২৭ পেয়ে ১৬তম এবং ২০১২ সালে ২৬ স্কোর পেয়ে বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে ছিল।

সিপিআই ২০১৭ অনুযায়ী ৯-এর স্কোর পেয়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার তালিকায় প্রথম অবস্থানে সোমালিয়া। এরপর ১২ স্কোর পেয়ে তালিকায় নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান এবং ১৪ পেয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে সিরিয়া।

এদিকে ২০১৭ সালের সিপিআই অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান। দেশটির স্কোর ৬৭। বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ভুটানের অবস্থান ২৬। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার স্কোর ৪০ এবং অবস্থান ৮১। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এরপরে শ্রীলঙ্কা ৩৮ স্কোর পেয়ে ৯১তম অবস্থানে, নেপাল ৩৩ স্কোর পেয়ে ১১২, বাংলাদেশ ২৮ স্কোর পেয়ে ১৭ এবং ১৫ স্কোর পেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দুর্নীতির সর্বনি¤œ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

দুদকের কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে: প্রতিবেদন মূল্যায়নে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত বছরের তুলনায় দুর্নীতির সূচকে দুই কমে এলেও এটি সন্তোষজনক নয়। তবে বাংলাদেশকে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত না করা হলেও সূচকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এখানে দুর্নীতির মাত্রা অধিক হিসেবে গণ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দুদক নীরব ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় সংসদে মৌলিক কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সংসদীয় কমিটিগুলো কার্যকর করা হচ্ছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে না। এ কারণে বাংলাদেশ এখনও দুর্নীতির সূচকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ১৮০টি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও ঘুষ আদান-প্রদান, স্বার্থের সংঘাত, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি পদপর্যাদার অপব্যবহার, প্রশাসন, কর আদায়, বিচার বিভাগসহ সরকারি কাজে বিধিবহির্ভূত অর্থ আদায়, অনিয়ম প্রতিরোধ ও দুর্নীতি সংঘটনকারীর বিচার করতে সরকারের সামর্থ্য, সাফল্য ও ব্যর্থতা, দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ এবং অর্জনে বাধাদানমূলক কার্যক্রমের ওপর জরিপ পদ্ধতিতে গবেষণা করে প্রতি বছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআই।