দুস্থদের সহায়তা প্রদানের কৌশল বদলাক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি শিল্প গ্রুপের পক্ষ থেকে বিতরণ করা ইফতারসামগ্রী নিতে এসে ৯ জনের করুণ মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমনটি শুধু ওই এলাকায় নয় দেশের বিভিন্ন স্থানে আগেও ঘটেছে। এমনকি একই কর্তৃপক্ষের এ ধরনের আয়োজনে আরেকবার ঘটেছিল ২০০৫ সালে। সেবার প্রাণ হারিয়েছিলেন পাঁচজন। এবার নিহতদের আটজনই নারী; একজন শিশু। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আশা করি, শোক কাটিয়ে উঠে তাদের স্বজনরা ধীরে ধীরে ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে।
ঠিক কী কারণে এটি ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সুষ্ঠু তদন্তও নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। ইফতারসামগ্রী বিতরণে ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ এনে এর মধ্যে মামলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট শিল্প গ্রুপ মালিকের বিরুদ্ধে। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এটি যে নিছক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা, সে ব্যাপারে কারও সন্দেহ থাকার কথা নয়। নিরপরাধ কেউ যাতে এতে হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিতেও সংশ্লিষ্টদের চেষ্টা থাকতে হবে।
এ ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যমে শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিহতদের দাফনের যাবতীয় খরচ, প্রত্যেকের পরিবারকে তিন লাখ টাকা সহায়তা, চলমান সহায়তার অংশ হিসেবে নিহতদের পরিবারের একজনকে চাকরি জোগানো এবং অসুস্থ সদস্যদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়েছে শিল্প গ্রুপটি। এ সিদ্ধান্ত তাদের আত্মোপলব্ধির পরিচায়ক। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো ঘোষিত সহায়তা যেন যথাযথভাবে পায়, সে ব্যাপারে আইনিভাবে বাধ্যবাধকতা তৈরির উদ্যোগও নিতে হবে। এরই মধ্যে যে মামলা হয়েছে, তার বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত বিষয়টি বিবেচনায় রাখবেন বলেই আশা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কিছুটা হলেও সহজ হবে।
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেশে অব্যাহতভাবে ঘটলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজন করতে দেওয়া হচ্ছে কেন? ব্যক্তি উদ্যোগে এ ধরনের আয়োজনে উপস্থিত জনসাধারণকে সামাল দেওয়া স্বভাবতই মুশকিল হয়ে পড়ে। এজন্য দুস্থদের মাঝে জাকাত, ফিতরা কিংবা ইফতারসামগ্রী বিতরণের মতো আয়োজনে সংশ্লিষ্টদের স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিতে বলব আমরা। ধর্মেও কিন্তু সম্মিলিতভাবে সহায়তা বিতরণে উৎসাহ জোগানো হয়েছে। তাতে এর উদ্দেশ্য হাসিল কিছুটা হলেও সহজতর হয়। আমাদের দেশে জাকাত, ফিতরা কিংবা ব্যক্তিগত দান সংগ্রহে সরকারি তহবিল ও প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলোর প্রতি এর দাতাদের তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। এর অন্যতম কারণ নিজ হাতে এসব মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে প্রচার ও আত্মতুষ্টি লাভের চেষ্টা থাকে অনেকের। কোনো কোনো স্থানে এর পেছনে সামাজিক বাস্তবতাও রয়েছে। এটা ঠিক, এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা গেলে তার প্রতি জাকাত, ফিতরা ও ব্যক্তিগত অনুদান প্রদানকারীর আস্থা আরও বাড়ত। সেক্ষেত্রে বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সহজেই এড়ানো যেত এমন মর্মান্তিক ঘটনা। সাতকানিয়ার ঘটনাটি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ ধারায় বোধোদয় ঘটাবে এটাই প্রত্যাশা।