দূর হোক গ্যাস খাত নিয়ে সমন্বয়হীনতা

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাস। আমাদের উৎপাদিত বিদ্যুতের সিংহভাগ এখনও আসে এ গ্যাস ব্যবহার করে। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা এর জোগান দিতে পারি না। এদিকে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে সে যুক্তিতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বাড়তি গ্যাসের নিশ্চয়তা পেতে বেশি দাম দিতে রাজি পিডিবি’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এটা জানা গেল। বাড়তি গ্যাসে বেশি দাম দিতে সংস্থাটি প্রস্তুত এজন্য যে, এতে অন্তত দুটি উৎপাদন কেন্দ্রের জ্বালানি তেল-নির্ভরতা কমবে এবং ব্যয় সাশ্রয় হবে তাতে।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিট তিন টাকা ১৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের ইউনিটপ্রতি দাম দুই টাকা ৭১ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর শিল্প-কারখানায় সাত টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা, গাড়িতে ব্যবহৃত সিএনজির দাম প্রতি ইউনিট ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ইউনিটে ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ও চা বাগানে প্রতি ইউনিট সাত টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খাতভেদে গ্যাসের দাম ২০ থেকে ৩৭২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে প্রায় ২২১ শতাংশ বৃদ্ধির। বিদ্যমান সরবরাহের চেয়ে বাড়তি গ্যাসের নিশ্চয়তা পেলেই বেশি দাম দিতে রাজি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এরই মধ্যে বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি সম্পন্ন করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে পিডিবির মতামত জানতে চায় বিইআরসি। চিঠির জবাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে দুটি শর্ত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে যে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছেÑতার দাম বাড়ানো যাবে না। এলএনজি আসার পর অতিরিক্ত যে গ্যাস সরবরাহ হবে, তার জন্যই কেবল বাড়তি দাম দিতে প্রস্তুত পিডিবি। বিকল্প শর্ত হলো, বাড়তি গ্যাস সরবরাহ করতে না পারলে সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উপকরণ হিসেবে যেটুকু ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হবে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পেট্রোবাংলাকে।
আমাদের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটানোর উদ্যোগ গ্রহণও জরুরি। এটাও নির্ধারণ করতে হবে, এলএনজির মতো খাতে বাংলাদেশ কতটা আমদানিনির্ভরতার দিকে ধাবিত হতে পারে। গ্যাস উত্তোলন ও আমদানি করতে গিয়ে সমন্বয়হীনতায় পড়লে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বৈকি।