দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে না

সা ক্ষা ৎ কা র :   ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে না সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। বর্তমানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর। দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজ থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতেও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু। ১৯৬৪ সালে যোগ দেন সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তানে (সিএসপি)। দেশের অর্থনীতির বর্তমান হালচাল, আসন্ন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ভাবনা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, সরকারের রাজস্ব, এডিপি বাস্তবায়ন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতসহ নানা বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন শেয়ার বিজের
সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসুম বিল্লাহ ও শামসুন নাহার

শেয়ার বিজ: প্রতি বছরই বড় বাজেট ঘোষণার রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু শতাংশের হিসাবে বাস্তবায়ন কমছে। বাস্তবায়ন হলে বড় বাজেট দেওয়া কতটা যৌক্তিক বলে মনে করেন?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: আমাদের দেশে একটা রীতি দাঁড়িয়ে গেছে যে, প্রতি বছর আগের বছরের তুলনায় বেশ বাড়িয়ে বাজেট ঘোষণা করা হয়। আর সেই বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জন করে তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বাজেটে যে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় তার তুলনায় ব্যয়ও কম হয়; আবার যে রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়, সে লক্ষ্যও অর্জন হয় না। ফলে বাজেটে যে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়, সেটিও কমে আসে। এখানে আরেকটি লক্ষ্য বিষয় হলোÑপ্রতি বছর যে বাজেট ঘোষণা করা হয়, তার বাস্তবায়নের হার ক্রমেই কমে আসছে। রাজস্ব আহরণ ও ব্যয় উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্যের তুলনায় অর্জন কম। পরিসংখ্যান দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ২০১১-১২ অর্থবছরে যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার অর্জন হয়েছিল ৯৩ শতাংশ। এরপর থেকে প্রায় প্রত্যেক বছরেই বাজেট বাস্তবায়ন হার ক্রমান্বয়ে কমেছে। আমার কাছে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত হিসাব আছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরটিতে বাজেট বাস্তবায়ন হার ছিল ৮১ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরেও হয়তো বাস্তবায়ন ৮০ শতাংশের আশপাশেই থাকবে।
শেয়ার বিজ: রাজস্ব আহরণেও দেখা যায় যে, বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন হয় না। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: রাজস্ব আহরণে মূলত প্রধান ভ‚মিকা পালন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকারের মোট যে রাজস্ব আহরণ হয়, আর প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এনবিআর থেকে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে বাজেটে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল তার প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্জন হয়েছিল; যা কমতে কমতে সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮৩ শতাংশে নেমে এসেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরের মাধ্যমে যে রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তা এরই মধ্যে সংশোধন করে ৯০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন হয় না। ফলে এবারও হয়তো ৮৩-৮৪ শতাংশ রাজস্ব আহরণ হবে। ফলে রাজস্বের লক্ষ্য অর্জনের যে ব্যর্থতা, তা অনস্বীকার্য।
শেয়ার বিজ: রাজস্বের হিসাবে দেখা যায়, এনবিআর যে হিসাব দেয়, তার সঙ্গে এজি অফিসের হিসাব মেলে না। গত অর্থবছরে দুই সংস্থার হিসাবের ব্যবধান ছিল প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়টি বাজেট ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রæটি তৈরি করছে কি?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: এত বড় ব্যবধান খুবই দুঃখজনক। দুই-চার হাজার কোটি টাকার একটা ব্যবধান থাকতে পারে। সেটা এ কারণে হতে পারে যে, কেউ হয়তো একটা চেকে কর পরিশোধ করল। এনবিআর সেটা রিপোর্ট করল। কিন্তু চেকটা ক্লিয়ারিং হয়ে আসতে সময় লাগল। কিন্তু তাতে তো এত বড় ব্যবধান হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এনবিআরের নিজস্ব যে পরিসংখ্যান সেখানেই দেখা যাচ্ছে, রাজস্ব আহরণে যে প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে বাস্তব প্রবৃদ্ধি তার চেয়ে অনেক কম। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসের হিসাবে দেখা যাচ্ছে গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। কিন্তু গত অর্থবছরে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০ শতাংশের মতো। কাজেই একদিকে সরকার বলছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে গেছে। এবার প্রবৃদ্ধি হবে সাত দশমিক ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি কমছে। যেটা গত অর্থবছরে ছিল সাত দশমিক ২৪। তাহলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লে তো কর প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার কোনো কারণই নেই। বরং এটা বাড়ার কথা। কাজেই এখানে হয় জিডিপি প্রবৃদ্ধি হিসাবে ত্রæটি আছে, নয়তো এনবিআরের অদক্ষতা আছে। শেষ কথা হলো, এই যে দুই সংস্থার হিসাবের মধ্যে এত বড় ব্যবধান; এটির সমাধান হওয়া দরকার। আমি একাধিক জায়গায় বিষয়টি উল্লেখ করেছি। আর কী কারণে এটা হচ্ছে, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যখন চ‚ড়ান্ত হিসাব করা হয়, তখনও এই ব্যবধানটা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিষয়টির সমাধান দরকার।
শেয়ার বিজ: বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা সরকারের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: আমি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একমত। কারণ হচ্ছেÑসরকারের অন্য যেসব পরিসংখ্যান আছে, তার সঙ্গে যদি আমরা জিডিপির প্রবৃদ্ধির হিসাব মেলাই, তাহলে সঙ্গতি খুঁজে পাই না। এক্ষেত্রে আমি একটি সূচক উল্লেখ করতে পারি, যার ভিত্তিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়। তা হলোÑইনক্রিমেন্টাল ক্যাপিটাল আউটপুট রেশিও। অর্থাৎ এক শতাংশ প্রবৃদ্ধির জন্য জিডিপির কত শতাংশ বিনিয়োগ দরকার হবে সেটি। সাধারণত এক শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়তে হলে জিডিপির সাড়ে চার শতাংশ বিনিয়োগ দরকার হয়। সে হিসেবে যদি সাত দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হয়, তাহলে ৩৪ শতাংশের ওপরে বিনিয়োগ দরকার হবে। এক্ষেত্রে সরকারের হিসাবেই দেখানো হয়েছে, বর্তমানে আমাদের বিনিয়োগ ৩১ শতাংশের কিছুটা বেশি। আর বেসরকারি বিনিয়োগ তো অনেক বছর ধরেই স্থবির। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এটি ছিল ২১ দশমিক ৯ শতাংশ, এখন যা ২৩ শতাংশের মতো বলে সরকার জানাচ্ছে। কাজেই সরকারের বিনিয়োগ পরিসংখ্যানই তাদের ঘোষিত প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করে না। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব দেওয়া হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত। একই সঙ্গে কর-রাজস্বের যে হিসাব দেওয়া হচ্ছে, সেখানেও সঙ্গতি নেই। জিডিপি প্রবৃদ্ধি যদি আগের অর্থবছরের তুলনায় বেড়ে থাকে, তাহলে তো অতিরিক্ত কোনো প্রচেষ্টা ছাড়াই রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা। কিন্তু রাজস্বের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।
শেয়ার বিজ: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে দেখা যাচ্ছে অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ বাড়লেও প্রকল্পগুলোর কাজের মান কমে যাচ্ছে। একটি সড়ক কার্পেটিংয়ের পর সপ্তাহ পেরোনোর আগেই তা উঠে যায়। এ বিষয়ে কিছু বলুন।
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: প্রথম কথা হচ্ছে সার্বিক বাজেট বাস্তবায়নে যে ঘাটতি হয়, তার সিংহভাগ আসে এডিপি বাস্তবায়ন ঘাটতির কারণে। অর্থাৎ যে এডিপি ঘোষণা করা হয়, তার পর তা বাস্তবায়ন হয় না। দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে, অনেক বেশি প্রকল্প নেওয়া হয়। যেহেতু সম্পদ সীমিত, এই অনেক প্রকল্পের মাঝে সীমিত সম্পদ অল্প অল্প করে বিতরণ করা হয়। প্রকল্পের বছরভিত্তিক বাস্তবায়নের যে লক্ষ্য থাকে, সে অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয় না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়কাল বেড়ে যায়। এর সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ে। তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে, যে বরাদ্দ দেওয়া হয়; সেটিও ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারে না সংশ্লিষ্ট অনেক মন্ত্রণালয়। একদিকে কম বরাদ্দ, অন্যদিকে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করতে না পারার ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়কাল আরও বেড়ে যাচ্ছে।
আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বেড়ে যাবে। কারণ তিন বছরমেয়াদি একটি প্রকল্পের জন্য একজন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্প যদি বাস্তবায়ন হতে ১০ বছর সময় লাগে, তাহলে ১০ বছর ধরেই প্রকল্প পরিচালককে বেতন-ভাতা
দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে রেট শিডিউলও পরিবর্তন হবে। ফলে প্রকল্পের অন্যান্য অনুষঙ্গের ব্যয়ও বাড়বে।
কম বরাদ্দ দেওয়া একটা বড় সমস্যা। কয়েক বছর আগে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সরকারি ব্যয়ের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। সেখানে দেখা যায়, ৩২টির মতো প্রকল্প আছে, যেগুলোতে বিদ্যমান হারে বরাদ্দ দিলে বাস্তবায়ন শেষ হতে ১০০ বছর সময় লাগবে। আর এখন যে সমস্যাটা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো, যে কাজটা হচ্ছে তার গুণগত মান খুবই খারাপ। একটা সেতু বানালে তিন মাসের মধ্যেই ত্রæটি দেখা দেয়, রাস্তা মেরামত করলে দুই সপ্তাহের মধ্যে কার্পেটিং উঠে যায়। আবার ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য পৃথক কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, এক প্রতিষ্ঠান একটি কাজ করল, অন্য প্রতিষ্ঠান তাদের তাদের স্বার্থে আবার তা খুলে ফেলল। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এমনটি বেশি হয়। বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন সমন্বয়হীনতা রয়েছে। উন্নয়নকাজের নামে খোঁড়াখুঁড়ি চলতেই থাকে। এ খোঁড়াখুঁড়ির কারণে কোনো দিন টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় আবার কোনো দিন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থা চলতে থাকে। উন্নয়নকাজের পদ্ধতিগত দুর্বলতা, অদক্ষতা ও জবাবদিহিতার অভাবই এর জন্য দায়ী। এখানে ভালোকাজের কোনো স্বীকৃতি নেই, আর কাজ খারাপ করলেও কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই। এর ফলে কাজের গুণগত মান সবসময়ই অনাকাক্সিক্ষত।
শেয়ার বিজ: অনেকেই বলে থাকেন আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হওয়ার কথা। এটা ১০ শতাংশের ওপরে যাওয়াও অসম্ভব নয়। কিন্তু অদক্ষতা আর অব্যবস্থাপনার কারণে তা হচ্ছে না। এ বিষয়ে আপনার কী মত?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: প্রবৃদ্ধি ১০-১১ শতাংশ হওয়ার জন্য যে বিনিয়োগ দরকার, সেটিই তো হচ্ছে না। ১০ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি হতে হলে কমপক্ষে জিডিপির ৪০ শতাংশের ওপরে বিনিয়োগ দরকার হবে। কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ তো বাড়ছে না বললেই চলে। এ খাতে বিনিয়োগ না বাড়ার পেছনে অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। একটা তো আমরা সবাই জানি যে, অবকাঠামোগত সমস্যা। যানজট একটা বড় সমস্যা। আমরা প্রায়ই দেখি যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০-৬০ কিলোমিটার যানজট। রেলওয়ের পরিবহন ব্যবস্থা খুবই অদক্ষ। জমি প্রাপ্তিতে এখনও সমস্যা বিদ্যমান। জ্বালানি প্রাপ্তিতেও সমস্যা আছে। এছাড়া ব্যবসার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের যে সূচক রয়েছে, ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সেখানে ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৭তম। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সুশাসনের যে সূচক রয়েছে, সেখানেও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। এক্ষেত্রে ছয়টি সূচক রয়েছে। প্রত্যেকটিতে আমাদের অবস্থান নিচের দিকের ২০ শতাংশ দেশের মধ্যে। অ্যাবসেন্স অব ভায়োলেন্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি একটি সূচক রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে তো এ ধরনের সমস্যা লেগেই থাকে। স্থানীয়ভাবে প্রায়ই হরতাল হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে ধর্মঘট একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর সর্বনি¤œ ১১ শতাংশ দেশের মধ্যে।
কাজেই ১০-১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি তাত্তি¡কভাবে সম্ভব। তাত্তি¡কভাবে সম্ভব এ কারণে যে, আমাদের দেশের একটি শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জনমিতির লভ্যাংশকে (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড)। অর্থাৎ কর্মক্ষম জনসংখ্যার আনুপাতিক হার অনেক বেশি। এদের যদি কাজে লাগানো যায় এবং সেই কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ১০-১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব নয়। আর এটি তো অসম্ভব নয়। কারণ আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশই উন্নয়নের প্রথম পর্যায়ে ১০, ১১ এমনকি ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াÑএসব দেশ একসময় নিয়মিতভাবে
১০ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। কিন্তু
এর জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও পরিবেশ
নিশ্চিত করতে হবে।
শেয়ার বিজ: অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এসএমই খাতে এগিয়ে আসতে চান। কিন্তু তারা নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে আসতে পারছেন না বলে অনেকে জানিয়েছেন। এসএমই আমাদের অর্থনীতিতে কেমন ভ‚মিকা রাখতে পারে?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: এসএমই খাতের জন্য কাগজে-কলমে অনেক উদ্যোগই আছে। এসএমই ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থাই রয়েছে তাদের সহযোগিতা করার জন্য। ব্যাংকগুলোকে এ খাতে কম সুদে ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি টার্গেটও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা আছে। আর একটা বিষয় হলোÑএসএমই উদ্যোক্তারা কী ধরনের ব্যবসা করছেন, সেটা বিবেচনা করতে হবে। এসএমই খাতকে যদি বৃহৎ ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। কেবল নকশিকাঁথা আর জামদানি দিয়ে এ খাতের উন্নতি হবে না। আর বৃহৎ শিল্প খাতের সঙ্গে এসএমইকে সম্পৃক্ত করার উপায় হচ্ছে, প্রোডাকশন চেইনের মধ্যে এসএমইকে অন্তর্ভুক্ত করা। উদাহরণস্বরূপ জাপানের কথা বলা যেতে পারে। ১৯৬২ সালে আমি একটি গবেষণার কাজে জাপানে গিয়েছিলাম। সে সময় তাদের এসএমই খাত ছিল বিশাল। আমার ধারণা ছিল, জাপান যেহেতু এখন উচ্চমাত্রায় শিল্পায়িত দেশ, সুতরাং সেখানে হয়তো এখন আর ক্ষুদ্রশিল্প নেই। কিন্তু কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনারে জাপানের একজন অর্থনীতিবিদ এসেছিলেন। তিনি বললেন, বাংলাদেশ ও জাপান খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ। সবাই অবাক, যে এমন একটি উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ সাদৃশ্যপূর্ণ হয় কী করে? তখন তিনি বললেন, জাপানেও এসএমই খাতকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাপানে টয়োটার মতো বড় অটোমোবাইল কারখানা রয়েছে। কিন্তু একটি গাড়ি তৈরি করতে তো অসংখ্য ধরনের যন্ত্রাংশ লাগে। সে দেশের এসএমই খাত বড় শিল্প খাতে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের জোগান দিয়ে থাকে। এভাবে এসএমইকে বড় শিল্প খাতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে তা অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে।
শেয়ার বিজ: ব্যাংক ও আর্থিক খাতে বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটছে। এসব কেলেঙ্কারির সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থার কারণ কী এবং এ থেকে প্রতিকারের উপায় কী?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: এক্ষেত্রে দুটি বিষয় অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন বিষয়ে আমি সন্দিহান। এর প্রথম বিষয় হচ্ছে এ খাতে বর্তমানে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা থেকে উত্তরণে প্রথমে দরকার দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সে অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে যা করতে হবে তা হলো, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেওয়া বন্ধ করতে হবে, রাজনৈতিক কারণে ঋণ আদায়ে কোনো নমনীয়তা দেখানো যাবে না, রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন কোনো ব্যাংক অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের সুশাসনের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। সম্প্রতি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য নিয়োগ বিষয়ে আইনের যে সংস্কার হয়েছে, তা খুবই অনাকাক্সিক্ষত। একই পরিবার থেকে দুজনের স্থলে চারজন এবং একই ব্যক্তির তিন বছর করে পরপর দুই মেয়াদের পরিবর্তে তিন মেয়াদে পরিচালক থাকার বিধান সংযুক্ত করা সঠিক হয়নি। প্রকৃত দৃঢ় রাজনৈতিক সংকল্প ছাড়া এসব সমস্যার সমাধান হবে না। এখন পর্যন্ত এ ধরনের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো আমাদের বিচার ব্যবস্থা। অর্থঋণ আদালতগুলো করা হয়েছিল এ জন্য যে, অর্থঋণ-সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমাগুলো যাতে দ্রæত নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু সেখানে তো হাজার হাজার মামলা জমে গেছে। এখানে বড় খেলাপিদের নিয়ে বেশি জটিলতা দেখা দেয়। তাদের বিরুদ্ধে যখন অর্থঋণ আদালত থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তখন তারা উচ্চ আদালত থেকে একটা স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে। এ বিষয়ে আমি প্রায়ই বলে থাকি, এ স্থগিতাদেশগুলো কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকে। আমি মনে করি, এসব মামলাজট কমানো এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খেলাপি ঋণ আদায় করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে মামলাগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায়, সে বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে হবে। আর ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা ত্বরিত গতিতে নেওয়া না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
শেয়ার বিজ: চলতি বছরের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে নি¤œগামী প্রবণতা চলছে। ভালো আইপিও আসছে না। অন্যদিকে খারাপ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে। সব মিলে বিনিয়োগকারীরা নিরাশ। এ বিষয়ে আপনার মত কী?
মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম: প্রথম কথা হচ্ছে, আমাদের পুঁজিবাজার এখনও পর্যন্ত শিল্পে অর্থায়নে খুবই কম ভ‚মিকা পালন করছে। এটা কাক্সিক্ষত পরিস্থিতি না। দ্বিতীয় বিষয় হলো গত দু-তিন মাস ধরে পুঁজিবাজারে সূচকের যে নি¤œমুখী প্রবণতা দখা যাচ্ছে, এটার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। কারণ বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের দিকে যদি লক্ষ করি, তাহলে পুঁজিবাজারে বর্তমান চিত্র তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধির হার সাত দশমিক ৬৫ শতাংশ। যদিও এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমার হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক আট শতাংশের মতো হতে পারে। সেটাও যদি হয়, তাও এটা একটা ভালো প্রবৃদ্ধি। এশিয়ার মধ্যে হয়তো দু-একটা দেশ আমাদের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। কাজেই সামষ্টিক অর্থনৈতিক দিকে কোনো সমস্যা দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও কোনো অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে না। কৌশলগত অংশীদার নিয়ে একটা জটিলতা ছিল, সেটাও তো মিটে গেছে। সেটাও কোনো বড় সমস্যা ছিল না। বেসরকারি খাতে তো ঋণের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি। সর্বশেষ এ প্রবৃদ্ধি সাড়ে ১৮ শতাংশ ছিল। সুতরাং তারল্য সংকটও তো সেই অর্থে নেই। এখন ব্যাংকে তারল্য সংকটের বিষয়ে যা কিছুই বলা হোক না কেন, ঋণ তো যাচ্ছে। ঋণটা কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে যাচ্ছে, এটা পাচারের জন্য ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটা অন্য হিসাব। সুতরাং সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে পতনের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ
আমি পাচ্ছি না।
দ্বিতীয়ত যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো, বিনিয়োগকারীদেরও তো ভ‚মিকা আছে। এই জেড ক্যাটেগরি, এই ক্যাটেগরি নামে কোনো কোম্পানি বিশ্বের অন্য কোনো পুঁজিবাজারে নেই। এটা বাংলাদেশে করা হয়েছিল এ জন্য যে, আমাদের বিনিয়োগকারীরা অনভিজ্ঞ। এ ক্যাটেগরির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বুঝিয়ে দেওয়া, জেড ক্যাটেগরির কোম্পানিগুলো খারাপ। তারপরও যে কোম্পানির অস্তিত্ব নেই, সে কোম্পানির শেয়ারদর এত বাড়ে কী করে? বিএসইসির চেয়ারম্যান থাকাকালে আমি ১১টি কোম্পানির লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এরপর যা হয়, ওই কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগকারীরা মিছিল শুরু করল। আমি তাদের মধ্য থেকে দু-তিনজন প্রতিনিধিকে ডাকলাম। তখন আমি তাদের বলেছিলাম, আপনারা তো জানেনই যে, এ শেয়ারগুলো খারাপ। তারপরও কেন এগুলোয় বিনিয়োগ করলেন? আপনাদের এ সিদ্ধান্তের জন্য আপনারা নিজেরাই দায়ী। এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার যদি বিনিয়োগকারীরা বেশি দামে কেনে, তাহলে সেটা তাদের বোকামি। তবে একটা কথা ঠিক যে, বাজারে নতুন কোনো ভালো শেয়ার আসছে না। যেগুলো আসছে, সেগুলো ছোট। আর সরকারের যে ভ‚মিকা সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশ্নবিদ্ধ এই অর্থে যে, বেশ কিছুদিন আগে ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চিহ্নিত করা হয়েছিল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য। কিন্তু সেগুলোর একটিও বাজারে আসেনি। যখন এ সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার কিছুদিন পর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম, আমার অভিজ্ঞতা যেটা তা হলোÑনিয়মিতভাবে ফলোআপ না করলে এগুলো তালিকাভুক্ত হবে না। তিতাস গ্যাসের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের ফলোআপ করতে হয়েছিল। জ্বালানি খাতের আরও দু-একটি কোম্পানি আমি আনতে সক্ষম হয়েছিলাম। এর বাইরে ভালো বড় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার জন্য নেগোসিয়েশন করতে হবে। গ্রামীণফোনের তালিকাভুক্তি হয়েছিল এমন দীর্ঘ আলোচনার পর। আমি আলোচনাটা শুরু করেছিলাম বিএসইসির চেয়ারম্যান থাকাকালে। পরে যখন তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলাম, তখন এটা ফলোআপ করেছি। আমি উপদেষ্টা থাকাকালে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলো তালিকাভুক্ত হবে। তবে সে জন্য দু-তিন বছর সময় লেগেছে। চ‚ড়ান্ত তালিকাভুক্তি হয়েছে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর। এখন ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে আমি সে ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। আর সরকার যদি নিজেদের কোম্পানি তালিকাভুক্ত না করে, তাহলে তো বেসরকারি কোম্পানি বলবে, আমাদের কি এত দায় পড়েছে? আমরা তো ব্যাংক থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতে পারি। তাছাড়া ব্যাংক থেকে অর্থ নিলে এত বেশি জবাবদিহি করতে হয় না। শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে সভা করা লাগবে না ইত্যাদি। আর এই জবাবদিহিতার ভয়েই ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অনেক কোম্পানি বাজারে আসতে চায় না। তবে সার্বিকভাবে যদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় এবং বিনিয়োগকারীদের যদি বিনিয়োগ বাড়ানোর চাহিদা থাকে, তাহলে বাজারের অবস্থা কিছুটা ভালো হবে। কারণ ব্যাংকের অর্থায়নের ক্ষেত্রে তো কিছু নিয়ম আছে। তাদের সিআরআর, এডিআরের মতো বিষয় অনুসরণ করতে হয়। সুতরাং যদি বিনিয়োগ বাড়ানোর ইচ্ছা থাকে, তখন সবাই বাজারমুখী হবে। কিন্তু এখন তো তেমন কোনো চিত্র দেখা যাচ্ছে
না। সরকার দিচ্ছে না নিজেদের কোম্পানি, ব্যাংকিং খাতে দুরবস্থা।
শেয়ার বিজ: সাম্প