দেশজুড়ে হাতিল

বাংলাদেশের আসবাবশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে হাতিল ফার্নিচার। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন রাহাতুল ইসলাম

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফার্নিচার ব্র্যান্ড হাতিল। দেশের পরিচিত আসবাবপত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এটি। বাসাবাড়ি, অফিস ও শোরুম ফার্নিচার হাতিলের শাখাগুলোয় পাওয়া যায়। নিত্যনতুন ডিজাইন ও মজবুত কাঠামোর আসবাবপত্রের জন্য হাতিল গ্রাহক পছন্দের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে। আসুন জেনে নিই হাতিল সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য।
১৯৮৯ সালে পথচলা শুরু করে হাতিল ফার্নিচার। প্রতিষ্ঠানটির শ্লোগান ‘সিøম ইজ স্মার্ট’। দেশের ফার্নিচার জগতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে হাতিল।
রাজধানীতে হাতিলের ১৪টি শোরুম রয়েছে। এগুলো নয়াপল্টন, পান্থপথ,
মিরপুর, এলিফ্যান্ট রোড, বাড্ডা, উত্তরা, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, নারিন্দা, শান্তিনগর, খিলগাঁও, রামপুরা, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। এছাড়া সারাদেশে রয়েছে হাতিলের বেশ কিছু শোরুম। এগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জে দুটি এবং গাজীপুর, নরসিংদী, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহে একটি করে শাখা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রামে তিনটি এবং কুমিল্লা, ফেনি ও নোয়াখালীতে একটি করে শাখা রয়েছে। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে দুটি ও সিলেটে একটি শাখা রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনাতে একটি করে শাখা রয়েছে। এছাড়া রংপুর, খুলনা ও বরিশালে একটি করে শাখা রয়েছে।
হাতিলে প্লাইউড, কাঠ ও স্টিলের তৈরি আসবাবপত্র পাওয়া যায়। বাসাবাড়ির ব্যবহার-উপযোগী আসবাবপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সোফা, ডিভান, সেন্টার টেবিল, বেড ও বেডসাইড টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, চেস্ট অব ড্রয়ার, ওয়ারড্রোব, ডাইনিং টেবিল, ডিনার ওয়াগন, শোকেস, ওপেন সেলফ, টিভি ক্যাবিনেট, মিনি ক্যাবিনেট, কর্নার টেবিল ও অন্য আসবাবপত্র।
অফিসে ব্যবহারোপযোগী আসবাবপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইভেল চেয়ার, ডিরেক্টর টেবিল, এক্সিকিউটিভ টেবিল, কম্পিউটার টেবিল, শু-রেক, অফিস আলমারি, সেলফ, কাপবোর্ড, ফাইল ক্যাবিনেট, ফাইল র‌্যাক, গ্রুপ চেয়ার, মিনি কনফারেন্স টেবিল, মোবাইল ড্রয়ার, অফিস সাইড র‌্যাক, স্টোরেজ র‌্যাক, টিভি ট্রলি, ভিজিটর চেয়ার, আলমারি, কনফারেন্স টেবিল ও রিডিং টেবিল। আরও রয়েছে উডেন ডোর ও ফ্ল্যাশ ডোর।
বাসাবাড়ির আসবাবপত্র বেশিরভাগই কাঠের তৈরি। শুধু কম্পিউটার টেবিল প্লাইউডের তৈরি। অফিস আসবাবপত্রের মধ্যে টেবিল, ক্যাবিনেট, সেলফ, কনফারেন্স টেবিলসহ বেশিরভাগ আসবাবপত্রই প্লাইউডের তৈরি। চেয়ারগুলো ফোম, স্টিল ও প্লাস্টিকের তৈরি।
গ্রাহকের দোরগোড়ায় পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করে থাকে হাতিল। নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে রাজধানীতে এই সেবা দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, এজন্য আলাদা কোনো ডেলিভারি চার্জ দিতে হয় না। হাতিলের সব শাখাতে এই সুবিধা রয়েছে। এছাড়া আছে ওয়ারেন্টি সুবিধা। সব ফার্নিচারে এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে ফার্নিচারে কোনোরকম সমস্যা হলে সম্পূর্ণ ফ্রি
হোম সার্ভিসিং করে দেওয়া হয়। এক বছর-পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যা হলে যাতায়াত ভাড়া ও কোনো কিছু নষ্ট হলে তার দাম পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া হাতিলের সব কাঠের ফার্নিচারে পাঁচ বছর ঘুণমুক্ত থাকার ওয়ারেন্টি রয়েছে।
হাতিল ফার্নিচারে আসবাবপত্রের দাম পরিশোধের ক্ষেত্রে টাকার পাশাপাশি ভিসা, মাস্টারকার্ড ও চেকের ব্যবস্থা রয়েছে। চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে চেক ক্যাশ হওয়ার পর আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়।
হাতিল ফার্নিচারের ঢাকার শাখাগুলো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এলাকাভিত্তিক যেদিন যে এলাকায় বন্ধ থাকে, সেদিন সে এলাকার শাখাটি বন্ধ থাকে। এছাড়া শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে খোলা থাকে।

গ্রাহকের পছন্দ…
ব্যস্ত দুনিয়ায় সবকিছু খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও নিজেদের পরিবর্তন করছি। ফার্নিচারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। বাড়িতে নতুন লুক আনার জন্য প্রয়োজন আধুনিক ফার্নিচার। কেননা ফার্নিচার এখন নিত্য ব্যবহার্য উপাদানের পাশাপাশি ডেকোরেশনেরও একটি অংশ। ঘরের স্মার্ট নকশাই বলে দেবে আপনার রুচি আর স্মার্টনেস।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফার্নিচারের মধ্যে হাতিল প্রতিবছর নতুন ডিজাইনের আসবাব বাজারে আনে।
কথা হয় ক্রেতা শামসুন নাহারের সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশের বাজারে নানা ধরনের ফার্নিচারের ব্র্যান্ড রয়েছে। এর মধ্যে হাতিলই পছন্দ করি। এর ডিজাইন চমৎকার। আরেক ক্রেতা মো. শাহিনুর রহমান নাহিদ বলেন, গুণমান বিচারে হাতিলের ফার্নিচারের প্রশংসা করতে হয়। রুবাইয়াত ইয়াসমিনের কাছে হাতিল ফার্নিচার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিøম ও স্মার্ট হাতিলের সব পণ্য। আর যুগোপযোগী ডিজাইনের জন্য এই ব্র্যান্ডটি ক্রেতার মন জয় করে নিয়েছে। নান্দনিক নকশার কারণে রুচিশীল মানুষদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হাতিল ফার্নিচার। আমারও ভীষণ পছন্দের।
বিশ্ববাজারে দেশীয় আসবাব পণ্যের রফতানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারকে বিবেচনা করে পণ্য তৈরি করছে হাতিল। দেশের বাজারে হাতিলের যেসব পণ্য পাওয়া যায়, ঠিক একই পণ্য রফতানি করে প্রতিষ্ঠানটি। অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি করা। কাঠ, ফিনিশিং ম্যাটেরিয়ালস, হার্ডওয়্যার, লেকার, ফেব্রিকস সবই আমদানি করা হয়।