দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রকল্প

শেয়ার বিজ ডেস্ক: স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছিল গত শতকের ষাটের দশকে। নানা কারণে তা আর ফোটেনি। ২০০৯ সালে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের। এর অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয় ২০১৩ সালে। প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্নের পর অনুমোদন করা হয় দ্বিতীয় পর্যায়ের।

গত বছর ডিসেম্বরে একনেক সভায় অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের প্রকল্প। নয় বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের ইআরডির মধ্যে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট (ঋণ) চুক্তি হয়। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা) এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়ার দেওয়া ঋণের সুদের হার হচ্ছে লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেটের (লাইবর) সঙ্গে যুক্ত হবে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে তা ৪ শতাংশের বেশি হবে না। এছাড়া ঋণ ব্যবহার কাল ৮ বছর, প্রেস পিরিয়ড ১০ বছর এবং পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে।

সূত্র জানায়, এরই মধ্যে মূল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। মূল কাজ সম্পাদনের জন্য রাশিয়ান সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মধ্যে অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ ও ২নং ইউনিটের বিস্তারিত ডিজাইন তৈরি, সরঞ্জাম সংগ্রহ, এলটিএমই সংগ্রহ, এ দুটি ইউনিট নির্মাণ, পারমাণবিক জ্বালানি সংগ্রহ, কমিশনিং ও টেস্টিং প্রভৃতি। এছাড়া প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ৩৬৯ জন এবং পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য কাজ পরিচালনার জন্য দুই হাজার ৫৩৫ জন জনবল নিয়োগ, প্রকৌশল সরঞ্জামাদি স্থাপন, ভূমি অধিগ্রহণ, পূর্ত নির্মাণ কাজসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আইন অনুযায়ী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের হাতে। তবে কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব পাবে ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ’ এটি বাস্তবায়িত হলে দুটি বিদ্যুৎ ইউনিটের (ইউনিট ১ ও ২) সমন্বয়ে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। সেইসঙ্গে এটি পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভৌত অবকাঠামো তৈরি, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

একনজরে অগ্রগতি

১. ২০১০ সালের ২১ মে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও কাঠামোগত চুক্তি সই
২. ২০১১ সালের ১১-১৫ সেপ্টেম্বর সাইট স্পেসিফিক স্টাডি নিয়ে যৌথ পর্যালোচনা
৩. ২০১১ সালের ২ নভেম্বর রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি সই
৪. ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় ঋণ-সংক্রান্ত প্রাথমিক চুক্তি সই
৫. ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন
৬. ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
৭. ২০১৪ সালের ৫ জুন তৃতীয় চুক্তি সই
৮. ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত চুক্তি সই
৯. ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই ঋণ চুক্তি সই
১০. ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন
১২. ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ পারমাণবিক বিদ্যুতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় খসড়া চুক্তি সই

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণব্যয়

প্রথম পর্যায়: প্রকল্পব্যয় ৫ হাজার ৮৭ কোটি আট লাখ টাকা
প্রকল্প সহায়তা ৪ হাজার কোটি টাকা
সরকারি তহবিল ১ হাজার ৮৭ কোটি আট লাখ টাকা
দ্বিতীয় পর্যায়: প্রকল্পব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা
প্রকল্প সহায়তা ৯১ হাজার কোটি টাকা
সরকারি তহবিল ২২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা