‘দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে আসেন ক্রেতাসাধারণ’

মো. এনামুল হক শাহিন

১৪ নং চতরা ইউপি চেয়ারম্যান ও

সভাপতি, চতরা হাট কমিটি

চতরা হাটের সঙ্গে পাঠককে কীভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন…

রংপুরের অনেক পুরোনো এই চতরা হাট। ব্রিটিশ আমলে গড়ে উঠে। নীলাম্বর রাজার নীল দরিয়ার পাশে করতোয়া নদী ঘেঁষে হাটটি গড়ে ওঠে। আগে পালতোলা নৌকায় করে এ হাট থেকে পাট সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন স্থানে।

এত নামডাক কেন হাটের?

কাঁচামাল, ভুট্টা, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন পণ্যের আড়তদারী ব্যবসার জন্য বিখ্যাত এ হাট। সপ্তাহে মঙ্গল ও শুক্রবার হাট বসে। এ হাটে সব ধরনের পণ্য বেচাকেনা হয়। পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, রানীগঞ্জ, ভাদুরিয়া, বিরমপুর, গাইবান্ধার ধাপেরহাট, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী, আমলাগাছী ও রংপুরের খালাশপীর, ভেণ্ডাবাড়ী, বড় দরগা, শানেরহাট, মাদারগঞ্জ, বালুয়াসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে লোকজন এ হাটে আসে।

 

এখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন?

অতীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা তেমন জোরদার ছিল না। বর্তমান শতভাগ বিদ্যুতায়ন হওয়ায় হাটে আগত ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট নিরাপত্তা পান। উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় পুলিশ প্রশাসন অনায়াসে হাটে টহলরত থাকে। ফলে  চাঁদাবজি বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে না।

 দেশের কোন অংশ থেকে ক্রেতাসমাগম বেশি ঘটে?

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতার আগমন ঘটে। ধানের মৌসুমে নওগাঁ, নাটোর, পাবনার ঈশ্বরদী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে আড়তদারদের মাধ্যমে সড়কপথে পাইকাররা ধান নিয়ে যান। পাট মৌসুমে খুলনা, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ট্রাকযোগে ব্যবসায়ীরা পাট নিয়ে যান।

 কোন ধরনের পণ্য সরবরাহ বেশি?

দেশের যে কোনো হাটের চেয়ে চতরা হাটের কাঁচামাল যেমন আলু, বেগুন, পটোল, লাউ, করলা, মুলা, শসা, শিম, পেঁয়াজ, রসুনের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি। এখানকার কাঁচামাল স্থানীয়

হাট-বাজারের চাহিদা পূরণ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

 বর্তমানে হাটের প্রধান সমস্যা কী?

প্রধান সমস্যা অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এরপর আছে অবৈধ দখলদার। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে চলাফেরায় সমস্যা। করতোয়া নদীতে ব্রিজ নেই। কাঁচামাল বিক্রির জন্য তেমন কোনো নির্ধারিত স্থান না থাকায় ধাপেরহাট-চতরা হাট সংযোগ রাস্তা বন্ধ করে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ অবৈধভাবে ব্যবহার হচ্ছে। ধান, গম, পাট বিক্রির নির্দিষ্ট স্থান অতিসংকীর্ণ। পণ্যবাহী গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট স্থান নেই। সুপেয় পানির অভাব রয়েছে।

 

হাটটিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন

পল্লি এলাকায় এই হাট অবস্থিত। এখানকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজন করতোয়া নদীর ওপর কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ করে সংযোগ রাস্তাগুলো সচল করা উচিত। বিশেষ করে প্রাচীন বন্দর ঘোড়াঘাট বাজারের সঙ্গে চতরা হাটের সংযোগ রাস্তা পুনঃমেরামত আশু প্রয়োজন। এ হাটের রাজস্ব খাত বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন হিলি স্থলবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন। যদিও বর্তমান সরকারের সিøপ প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে হাটের উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। হাটের আয়তন প্রায় ৯ একর ৩১ শতক। আমি মনে করি, হাটের বৈধ জমি পুরোপুরি দখলে আনতে পারলে চতরা অত্র এলাকার একটি মডেল হাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।