দেশ ভারতীয় গাড়ির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের মোটরযান খাতে সরকারি নীতিতে বৈষম্যমূলক অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন গাড়ির ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলেও পুরোনো গাড়ির ব্যবসায়ীরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। শুল্কায়নের বৈষম্যের কারণে নতুন গাড়ির চেয়েও বেশি শুল্ক দিতে হচ্ছে পাঁচ বছরের পুরোনো গাড়ির আমদানিতে। দেশের অভ্যন্তরে শিল্প গড়ে ওঠার কোনো সুযোগ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে ভারতীয় নি¤œমানের গাড়ির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে দেশ।
গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ রিকনডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) নেতারা। প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বারভিডার সভাপতি হাবিবউল্লাহ ডন, সাবেক সভাপতি আবদুল হামিদ শরিফ, আনোয়ার হোসেন, মান্নান চৌধুরী খসরুসহ পরিচালকরা।
এ অবস্থায় গাড়ি আমদানিতে সুষম ব্যবস্থার জন্য রিকনডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়নের আগে ১০ শতাংশ ডিলার ডিসকাউন্ট চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া পুরোনো গাড়ির অবচয় সুবিধা কমানোর প্রস্তাব বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বারভিডা সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ৪০ বছর ধরে দেশের গাড়িশিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ হচ্ছে রিকনডিশন্ড প্রযুক্তির গাড়ি। ভালো মানের হওয়া সত্ত্বেও সরকার এ শিল্পকে নিরুৎসাহিত করছে। সরকারি এসআওতে শব্দ ও বাক্যের বিরোধপূর্ণ উপস্থাপনের কারণে পুরোনো গাড়ির আমদানিকারক ও গ্রাহকরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ খাতের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয় সরকারের। এ সেক্টরকে নিরুৎসাহিত করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একদিকে নতুন গাড়ি আমদানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে একটি পক্ষ। অন্যদিকে সিকেডির নামে যেসব গাড়ি আমদানি হচ্ছে, সেগুলোকে অ্যাসেম্বলিং করে বলা হচ্ছে যে দেশীয় শিল্প গড়ে উঠছে। এসব কারখানা স্থানীয় পর্যায়ে তেমন কোনো মূল্য সংযোজন করতে পারছে না। মূলত ভারতের বিভিন্ন নি¤œমানের গাড়ি ব্র্যান্ড নিউ হিসেবে দেশে এসে পড়ছে। বাংলাদেশ পুরোপুরি এখন ভারতীয় গাড়ির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অথচ এসব গাড়ি ভারতেই চলছে না। সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন বড় ব্র্যান্ড তাদের গাড়ি উৎপাদন করছে।
এ সময় বিভিন্ন গাড়ির মূল্যের তারতম্য তুলে ধরে উদ্যোক্তারা বলেন, জাপানের সরকারি ইয়োলো বুকে গাড়ির যে দাম লেখা থাকে তার ওপর অবচয় সুবিধা হিসাব করা হয়। সে কারণে পুরোনো গাড়ির ক্রেতারা গাড়ির মূল্যে কোনো ধরনের কৌশল করতে পারেন না। ফলে দেখা যায়, পুরোনো গাড়ির অবচয়-পরবর্তী মূল্যের ভিত্তিতে যে কর আরোপ করা হয়, তা যেকোনো নতুন গাড়ির ওপর আরোপ করা করের চেয়েও অনেক বেশি। দেখা গেছে পাঁচ বছরের পুরোনো ২০১৩ সালের একটি নিশান এক্স-ট্রেইল (২০০০) গাড়ির ওপর অবচয়ের পরও ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হয়। সেখানে সম্পূর্ণ নতুন একই মডেলের গাড়ির ওপর শুল্ক আসে ২২ লাখ ১৫ হাজার টাকা, কারণ নতুন গাড়ির আমদানি মূল্যের ক্ষেত্রে ইয়োলো বুক অনুসরণ করা হয় না। এসব গাড়ি বাংলাদেশের বাজারের জন্যই নি¤œমানের প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়। ফলে এগুলো দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় ভালো সেবা দিতে পারে না। ফলে ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বারভিডার নেতারা এ ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি সংস্কার করে সমতা আনার দাবি করে বলেন, সমতা আনার জন্য পুরোনো গাড়ির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবচয় সুবিধা হ্রাস করার প্রস্তাব বাতিল করতে হবে। এছাড়া গাড়ির শুল্কায়নের আগে ১০ শতাংশ ডিলারদের কমিশন হিসেবে বাদ দিতে হবে। এ প্রস্তাব বিবেচনা করলে পরিবহন খাতে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তগুলো সুফল বয়ে আনতে পারে বলে উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেন।