প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

দেড় হাজার কোটি টাকা আদায় করতে পারছে না পিডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থা এবং আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। এসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রচুর বিল অনাদায়ী পড়ে আছে। এছাড়া বেসরকারি খাতেও বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে গেছে। তবে অনেক পুরোনো গ্রাহক হওয়ায় তাদের বড় অংশের খোঁজ পাচ্ছে না পিডিবি। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আটকে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তথ্যের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে পিডিবি। এতে দেখা যায়, গত বছর শেষে সব মিলিয়ে পিডিবির বকেয়া বিদ্যুৎ বিল এক হাজার ৪৬৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে সংস্থাটির অনাদায়ী বিদ্যুৎ বিল রয়েছে প্রায় এক হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে বকেয়া ৭৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আধাসরকারি সংস্থা এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কাছে বকেয়া প্রায় ৩১০ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
জানতে চাইলে পিডিবির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক পরিচালন) মো. কাওসার আমীর আলী শেয়ার বিজকে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বকেয়া বিল আদায়ে কাজ চলছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে বেসরকারি খাতের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ এসব গ্রাহকের বড় অংশই ২০০০ সালের আগে। বর্তমানে তাদের বড় অংশের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক স্থানে জমির মালিকানা বদল হয়ে একাধিক ভবন হয়ে গেছে। কোথাও সড়ক সম্প্রসারণের ফলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা জমি অধিগ্রহণ করে নিয়েছে। তবে অডিট আপত্তির কারণে এসব বকেয়া অবলোপন (রাইট অফ) করা যাচ্ছে না।
তথ্যমতে, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পিডিবির সবচেয়ে বেশি পাওনা স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো নিয়মিত বিল পরিশোধ না করায় এ পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন সংস্থার কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ পিডিবির পাওনা রয়েছে ২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া কৃষি মন্ত্রণালয়ে। সেচ কাজে ব্যবহার করা বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট/ছাড় ঘোষণা করেছে সরকার। এ বাবদ বিল কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। মাত্র একটি কিস্তি পেয়েছিল পিডিবি। পরে বাজেট বরাদ্দ না থাকায় রিবেটের বকেয়া বিল দিচ্ছে না মন্ত্রণালয়।
এদিকে মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বকেয়া জমেছে। আর বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত স্কুল-কলেজে বিদ্যুৎ বিল বাবদ বকেয়া পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এছাড়া ১৯৭১ সালে আটকে পড়া বিহারিদের জন্য গড়ে তোলা বিভিন্ন ক্যাম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও সে বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে এ বিল পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আর বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের জন্য বকেয়া পড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে বেশকিছু বকেয়া বিদ্যুৎ বিল রয়েছে। সব মিলিয়ে এর পরিমাণ ১৯১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
বকেয়া বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর বিল নিয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। কোনো সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাই নিয়মিত বিল পরিশোধ করছে না। এজন্য কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে জনস্বার্থে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাচ্ছে না। এজন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করা যায়, বিষয়টি সমাধান করা যাবে। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের বকেয়া আদায়ে বাজেটে বরাদ্দ দিতে অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বকেয়া আদায়েও চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ..