প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

দ্বিতীয় সপ্তাহে সূচক পতনের সঙ্গে কমেছে বাজার মূলধন

ডিএসইর সাপ্তাহিক চিত্র

শেখ আবু তালেব: চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও শেয়ারদর পতন হলো দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির। লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট সিকিউরিটিজের মধ্যে ৮০ শতাংশের শেয়ারদর পতনের সঙ্গে পতন হয়েছে সব সূচকের। অবশ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে আসার
পরও লেনদেন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের সপ্তাহের চেয়ে বাজার মূলধন কমেছে দুই দশমিক ৭৫ শতাংশ। বড় মূলধনি খাতের সবকটিরই দর পতন হয়েছে। বাজার দীর্ঘ মেয়াদে পতনের বৃত্তে প্রবেশ করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের বাজেট পাস হওয়ার পরে দ্বিতীয় সপ্তাহ পার করল দেশের পুঁজিবাজার। প্রথম সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও সূচক ও শেয়ারদরে পতন হয়েছে। অবশ্য গত সপ্তাহে ডিএসইর সব সূচকের পতন হয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট হারিয়েছে গত সপ্তাহে, যা আগের চেয়ে দুই দশমিক ৯৫ শতাংশ কম। ডিএসইর লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।
তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫৫টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০টির বা ১৬ দশমিক ৯১ শতাংশ, দর পতন হয়েছে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, দর পরিবর্তন হয়নি ১৩টির ও লেনদেন হয়নি একটি সিকিউরিটিজের। দর পতনের শীর্ষ ১০টিতে স্থান পেয়েছে ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ার।
ঠিক কোন কারণে শেয়ারের দর পতন হচ্ছে, তার কোনো হিসাব মেলাতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। দর পতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা গত সপ্তাহে সড়কে নেমে প্রতিবাদ পর্যন্ত করেছেন। অথচ এবারের বাজেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই প্রণোদনার খবরও প্রচার করা হয়েছে জোরেশোরে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের মতে, বাজারে এখন তারল্যের সংকট চলছে। যে পুঁজি আছে তা বিনিয়োগ করার মতো ভালো শেয়ার নেই। এখন নতুন করে ভালো শেয়ারের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। সঙ্গে প্রয়োজন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি। নিয়ন্ত্রক সংস্থায়ই সুশাসন বৃদ্ধি করতে হবে।
তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে আগের চেয়ে দুই দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহেও ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছিল দুই হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা।
জানা গেছে, বড় মূলধনি খাতের সবকটিরই দর পতন হয়েছে। সর্বোচ্চ সাত দশমিক ২০ শতাংশ দর হারিয়েছে টেলিকম খাতের শেয়ার। ডিএসইর লেনদেন তথ্য বিশ্লেষণ শেষে দেখা যায়, গত সপ্তাহে লেনদেনে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ অবদান রেখেছে সাধারণ বিমা খাত। এর পরই রয়েছে প্রকৌশল খাতের ১৩ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত তিন শতাংশ, জীবন বিমা আট শতাংশ, আইটি দুই শতাংশ, ব্যাংক পাঁচ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাত ১২ শতাংশ, টেলিকম খাত দুই শতাংশ ও ওষুধ খাত ৯ শতাংশ এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত তিন শতাংশ অবদান রাখে।
একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সর্বোচ্চ গেইনারে ছিল এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড। সপ্তাহে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ৬০ শতাংশ। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া যায়।
গেইনারের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। এর পরই রয়েছে এশিয়ান
টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১, এসইএমএল লেকচার
ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ও প্রাইম ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
অপরদিকে দর হারানোর শীর্ষে চলে এসেছে আলোচিত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। ঋণ কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এই সংবাদে ব্যাপক দর পতন হয়েছে শেয়ারটির। গত সপ্তাহে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর কমেছে ২৫ শতাংশ। সর্বশেষ শেয়ারটি তিন টাকা দরে লেনদেন হয়। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটি সর্বমোট ৩০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা লেনদেন করে, যা গড়ে প্রতিদিন ছয় লাখ সাত হাজার টাকা।
দর পতনের শীর্ষ দশটিতে স্থান পাওয়া সবকটিই ‘জেড’ ক্যাটেগরির। তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, সমতা লেদার, শ্যামপুর সুগার মিল, মেঘনা পিইটি, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, জুট স্পিনার্স, তুং হাই নিটিং, বিচ হ্যাচারি ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স।

সর্বশেষ..