দ্য জেন রুল : সুখী হতে ছোট্ট পরিবর্তন

একটি বছরের বিদায়। নতুন বছরের শুরু। পুরোনো বছরের হিসাব-নিকাশ কষার উপযুক্ত সময় এটি। তবে অনায়াসে যে কাজটি সম্পন্ন করা যাবে তা নয়। সামাজিক মেলামেশা, নির্ধারিত সময়সূচি, ভ্রমণ প্রভৃতি কারণে সময় যে কখন পার হয়ে যায় বোঝা যায় না। তাছাড়া শীতকালের দিন ছোট হওয়ায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সাধ্য আছে কার?
এ জটিল সময়েও ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত একজন মানুষের জীবনকে আমূলে পরিবর্তন করে দিতে পারে। জেনে নিই তবে এ সহজ ও সরল বিষয়টিকে। এটি হচ্ছে জেন রুল।
জেন রুলের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ইতিহাসবিদদের মতে, ছয় শতকে চীনে এ মতবাদের বিকাশ হয়। ধীরে ধীরে তা প্রতিবেশী দেশগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পাশ্চাত্যে এর প্রভাব রয়েছে। প্রথমদিকে ধ্যানের মাধ্যমে মানুষের অন্তর্জগৎ আলোকিত করার ওপর জোর দেওয়া হতো এ জেন রুলে। বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্যান্য অনেক বিষয়। যেমন ছোট্ট একটি পরিবর্তন, কোনো লক্ষ্য নয়, শুধুই ছোট্ট পদক্ষেপ। এ পরিবর্তনের মধ্যে থাকতে পারে ১০ মিনিটের জন্য হাঁটা কিংবা দৌড়ানো, দুই মিনিট ধরে ড্রইং করা, সুষম খাবার খাওয়া, ইতিবাচক চিন্তা করা, একটু মন দিয়ে অন্যের কথা শোনা, কাউকে বকাঝকা করা থেকে নিজেকে দমিয়ে রাখা প্রভৃতি।
উল্লিখিত পরিবর্তন যে তাৎক্ষণিক হতে হবে তা নয়, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট, এমনটিকেই বলে জেন রুল। কাজ, ভালোবাসা, স্বাস্থ্য, পারিবারিক সমস্যা প্রভৃতির বেলায় একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে না পড়ে প্রথমে একটির পরিবর্তন করুন। বৈচিত্র্য আনুন চিন্তা-ভাবনায়।
জেন রুল মতে
# ক্ষুদ্রতর থেকে শুরু করতে হয়
# একবারে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট
# নিজের কার্যকলাপকে শ্রদ্ধা করতে হবে
# ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে
#কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।
জেন রুলের সৌন্দর্য ক্ষুদ্রতার মধ্যে নিহিত। এ ছোট পরিবর্তনের ফল দীর্ঘ মেয়াদে ভোগ করা যাবে। নতুন এ বছর শেষে নিজের উন্নতির সুফল শুধু নিজেই নয়, আশেপাশের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করতে পারবেন।

রতন কুমার দাস