দ্য বেঙ্গল গ্লাস ওয়ার্কস

কাচ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বনির্ভর একথা স্বীকার করবে সংশ্লিষ্ট সবাই। প্রতিবছর কাঁচের চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশেই অনেক প্রতিষ্ঠান কাচ উৎপাদন করছে। এরপর রফতানিও হচ্ছে তাদের উৎপাদিত কাচ। বোঝাই যায়, কাচ শিল্পের প্রসারে ভূমিকা রাখছে বেশ কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে দ্য বেঙ্গল গ্লাস ওয়ার্কস লিমিটেড অন্যতম।

বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্লাস প্রস্ততকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল গ্লাস। দ্য বেঙ্গল গ্লাস ওয়ার্কস লিমিটেডকে দেশবাসী বেঙ্গল গ্লাস নামেই চেনেন।

ফার্মাসিউটিক্যালস ও ভোক্তা পর্যায়ের চাহিদা মেটানোর জন্য বছরে ৫৬ হাজার মেট্রিক টনের বেশি অ্যাম্বার, গ্লাস ও জার উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। গ্লাস ল্যাম্প শেলও প্রস্তত করে আসছে তারা।

বেঙ্গল গ্লাসের পথচলা শুরু হয় ১৯৬৭ সালে। ভোক্তাসাধারণের জন্য প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে গুণগতমানে সেরা পণ্য সরবরাহ করে আসছে। একই সঙ্গে তাদের মতামত নিয়ে থাকে। গ্রাহকের মতামত ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে তারা। উৎপাদনের সব পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখে বেঙ্গল গ্লাস। পণ্যের উন্নয়ন ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলে কোনো আপস করে না তারা। সংগত কারণে দেশের বৃহৎ ও বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যালসের আস্থা অর্জন করেছে। শুধু দেশই নয়, বহির্বিশ্বেও গ্লাস কনটেইনার প্রস্তুতকারক হিসেবে সুনাম রয়েছে বেঙ্গল গ্লাসের। বর্তমানে অ্যালোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধের বোতল প্রস্তুতে নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে বেঙ্গল গ্লাস। একই সঙ্গে খাদ্য, পানীয়, কৃষি ও ভেটেরিনারি খাতে তাদের তৈরি পণ্যের সুনাম রয়েছে। একই সময়ে দেশের গ্লাস ল্যাম্প শেলের চাহিদা মেটাচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠান।

১৯৭৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে গ্লাসের বোতল তৈরি শুরু করে বেঙ্গল গ্লাস। তখন দিনপ্রতি ৪০ টন গ্লাসের বোতল প্রস্তুতের চুল্লি ব্যবহার করত। ১৯৯০ সালে প্রথম চুল্লিটির উৎপাদনক্ষমতা দিনপ্রতি ৪৮ টনে দাঁড়ায়। ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় চুল্লি স্থাপন করে। এতে প্রতিদিন ১০ টন বাল্ব শেল প্রস্তুত করা হতো। ২০০১ সালে প্রথম চুল্লিটির উৎপাদনক্ষমতা ৫৫ টনে দাঁড়ায়। ২০০৫ সালে দ্বিতীয় চুল্লিটি দিনে ২৫ টন বাল্ব শেল উৎপাদন শুরু করে। উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ২০১১ সালে তৃতীয় চুল্লি স্থাপন করা হয়। এটি দিনে ৬৫ টন অ্যাম্বার বোতল প্রস্তত দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। প্রসঙ্গত, এ সুবাদে এইচএসবিসি-দ্য ডেইলি স্টার ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ড ‘ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন ইন গ্রিন অপারেনশস’ অর্জন করে বেঙ্গল গ্লাস। ২০১২ সালে প্রথম চুল্লিটি দিনে ৬৫ টন গ্লাসের বোতল উৎপাদন শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে ওই বছর উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়ায় ১৫৫ টনে। ২০১৩ সালে ফ্লিন্ট গ্লাস প্রস্তত শুরু করে।

পরিবেশবান্ধব উন্নত কারখানা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ধারাবাহিক গবেষণা ও উন্নয়নের কারণে আজকের এই ঈর্ষণীয় অবস্থানে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্লাস উৎপাদনে জ্বালানীর ব্যবহার সুবিদিত। একটি চুল্লির তাপমাত্রা ১৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে থাকে। তথ্যটি এ কারণেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বেঙ্গল গ্লাস ওই মান বজায় রেখে চলেছে যেন সেরা পণ্যটিই গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। পরিবেশবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রয়েছে। পানি ও জ্বালানির পুনর্ব্যবহার করে থাকে তারা। তাছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন কম করে।

বেঙ্গল গ্লাসের ব্যবস্থাপনা টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন হিশামউদ্দিন সালেহ। এক্সটারনাল রিলেশনসের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তাহমিদ আহমেদ। সেলস অ্যান্ড আইটি টিমের দায়িত্বে রয়েছেন আমিন সালেহ। ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টসের নির্বাহী পরিচালক এম. শাহজাহান। একই বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার এমএ তরফদার। সাপ্লাই চেইনের নির্বাহী পরিচালক এইচ. মেহেদী। টেকনিক্যাল বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. বদরুল হক। প্রশাসন বিভাগের দেখভাল করেন কে. গিয়াসউদ্দিন।

বেঙ্গল গ্লাসের মূল শক্তি এর দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে তারা। বৈশ্বিক এইচআর রুল অনুসরণ করা হয় এখানে। কর্মী নিয়োগের বেলায় মেধা ও উদ্যমতার ওপর জোর দিয়ে থাকে। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পর কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মীদের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। যথাসময়ে প্রশিক্ষণ ও অনলাইন লার্নিং টুলস সরবরাহ করা হয় তাদের জন্য। যোগ্যতা অনুযায়ী বেতনভাতাদি নিশ্চিত করা হয় এখানে। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, উৎসব ও ছুটি বোনাস, গোষ্ঠী বিমা প্রভৃতি বিষয়াদি তো আছেই।

বেঙ্গল গ্লাসের করপোরেট গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে জিএসকে, এসিআই, ইবনে সিনা, হামদর্দ, এসকায়েফ, নোভার্টিস, ফিলিপস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা লিমিটেড, এক্মি, জেসন, অ্যারিস্টোফার্মা, অপসোনিন, সানোফি, বেক্সিমকো ফার্মা, ইনসেপটা প্রভৃতি।

 

রতন কুমার দাস