দ্রুত গ্রহণযোগ্য মীমাংসা হওয়া দরকার

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড অবসায়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডকে সম্প্রতি যে আদেশ দেওয়া হয়েছে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে, তা সচেতন পাঠকের জানতে বাকি নেই নিশ্চয়ই। ছয় বছরেরও বেশি সময় আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বর্তমানে কোম্পানিটির সব সম্পদই জব্দ। সেগুলো তদারকির জন্য তত্ত্বাবধায়কও নিয়োগ করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। ফলে কার্যত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। ডেসটিনির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বন্ধ সেই ২০১২ সাল থেকে। অথচ প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এজিএম সম্পন্ন করার ব্যাপারে রয়েছে আইনি বাধ্যবাধকতা। নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি তা পরিপালনে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে আদালতে বিলম্ব মার্জনা সাপেক্ষে পরবর্তী এজিএমের অনুমতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে জটিলতা হলো, সম্পদ জব্দের পর থেকে আজ অবধি কোম্পানির হিসাব নিরীক্ষা তথা অডিট হয়নি ডেসটিনির। এদিকে নিরীক্ষা প্রতিবেদন ছাড়া একটি কোম্পানির এজিএমই বা হয় কীভাবে! এ প্রেক্ষাপটে আদালতের আদেশটি ডেসটিনি ঘিরে চলমান সংকট উত্তরণে অনেকটা সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তাতে বহুদিন ঝুলে থাকা ইস্যুটির একটা সুরাহা হবে বলেও প্রত্যাশা।
এখন নানা ইস্যুর ভিড়ে হয়তো অনেকটাই হারিয়ে গেছে ডেসটিনি প্রসঙ্গটি। তবে বাংলাদেশের আর্থিক ইতিহাসে ডেসটিনি কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা বিরল নিঃসন্দেহে। কোম্পানিটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিংয়ের নামে প্রতারণা করছে, এমন অভিযোগ শুরু থেকেই ছিল। আবার ডেসটিনির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক সাধারণ মানুষকে পথে বসতেও দেখেছি আমরা। ফলে আর্থিক ও কোম্পানি আইন-বিধি মেনে ডেসটিনির বিচার হোক, এটা যেমন সবার কাম্য; একই সঙ্গে ইস্যুটির মানবিক দিক যেন কর্তৃপক্ষ বিস¥ৃত না হন, সেটাও প্রত্যাশিত। সবচেয়ে বড় বিষয়, রায় যেটিই হোক বিচারকার্য যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়। ডেসটিনির ঘটনাকে ঠিক হলমার্ক বা বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করা যায় না। শেষোক্ত দুই কেলেঙ্কারির প্রভাব সীমাবদ্ধ নির্দিষ্ট গন্ডিতে। আর ডেসটিনির প্রভাব ছড়িয়ে রয়েছে সারা দেশে। সেখানে যারা ‘বিনিয়োগ’ করেছিলেন, ডেসটিনির কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের অনেকেই এখনও প্রত্যাশা করে আছেন যে, কোম্পানির কিছু একটা হবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা তথা আদালতের রায় না থাকায় নিষ্ক্রিয় তারা। অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইস্যু বাদ দিলেও স্থানীয় পুঁজিবাজারের জন্য ক্ষতিকর এটা। এ ধরনের অনিশ্চয়তা ‘মার্কেট ইকুইলিব্রিয়াম’কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বৈকি। এমন পরিস্থিতিতে মহামান্য আদালতের আদেশ ঝুলে থাকা এ ইস্যুর দ্রুত মীমাংসা করবে, তেমনটাই প্রত্যাশিত।