সম্পাদকীয়

ধানের বাম্পার ফলনেও চাল আমদানি কাম্য নয়

চলতি বছর সারা দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে চাল উৎপাদনে রেকর্ডের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে ধানের দাম কম থাকায় কাক্সিক্ষত সুফল পাননি কৃষক। এ কারণে সরকারি পর্যায়ে অতিরিক্ত ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে। চাল রফতানির চিন্তাভাবনাও চলছে। এরই মধ্যে আগামী অর্থবছর সরকারিভাবে চাল আমদানি তিনগুণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেনÑতা বোধগম্য নয়। এতে কৃষকের স্বার্থ ক্ষুণœ হবে বলে মনে করি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘আগামী অর্থবছর চাল আমদানি তিনগুণ বাড়াবে সরকার’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারিভাবে চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ টন, যদিও চলতি অর্থবছর সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৫০ হাজার টন। এতে আগামী অর্থবছর চাল আমদানি বাড়বে দেড় লাখ টন বা ৩০০ শতাংশ। এদিকে আগামী অর্থবছর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে চাল সংগ্রহ কিছুটা কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ কৃষকের সুবিধার্থে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি অনুৎসাহিত করতে এ খাতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।
খবরেই বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরকারের চাল সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ২১ লাখ ৩১ হাজার টন। আগামী অর্থবছরের জন্য তা কমিয়ে ২১ লাখ ২০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিপরীতে চলতি বছর ধানের বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন। এ অবস্থায় দেশের অভ্যন্তর থেকে চাল সংগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের উৎসাহিত করা উচিত ছিল। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে চাল রফতানিও করা যেত। কিন্তু তা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়ার বিরূপ আচরণে কৃষকরা প্রায়ই ক্ষতির শিকার হন। আবার বাম্পার ফলন হওয়া সত্ত্বেও তারা ক্ষতিতে পড়া হতাশাজনক। অথচ মধ্যস্বত্বভোগীসহ চক্রগুলো বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এখন দেশে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে পরিসংখ্যান বলছে। কৃষি মন্ত্রণালয় চাল রফতানির বিষয়টি বিবেচনাও করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে চাল আমদানি বৃদ্ধির ব্যাপারটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরাও। চাল আমদানির সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেন জড়িত। এক্ষেত্রে সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কৃষকের ক্ষতি করে কোনো উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে না বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..