ধারাবাহিকভাবে কমছে আর্থিক খাতের লেনদেন

ব্যাংক খাতে ওঠানামা

Dices cubes with the words SELL BUY, Uptrend stacks of golden coins. Financial chart as background. Selective focus

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতের লেনদেন আগের সপ্তাহে কিছুটা কমলেও তা পুনরায় বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ব্যাংকের লেনদেন অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছিল; অর্থাৎ খাতটির লেনদেন ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। তবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যমতে, গেল সপ্তাহে মোট লেনদেনে আর্থিক খাতের অংশগ্রহণ ছিল মাত্র তিন শতাংশ, যা এক বছরের মধ্যে খাতটির সর্বনি¤œ লেনদেন। আলোচিত সময়ে খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেনে খাতটির অংশগ্রহণ ছিল চার শতাংশ। ওই সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। চলতি মাসের প্রথম দিকে মোট লেনদেনে আর্থিক খাতের দখলে ছিল ছয় শতাংশ। ওই সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছিল ৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ চলতি মাসের শুরু থেকে আর্থিক খাতের লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমছে। অথচ দীর্ঘ মন্দার পর আলোচিত সময়েই পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে।
এদিকে ব্যাংক খাতের লেনদেন চলতি মাসের শুরুর দিকে ইতিবাচক থাকলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে অনেকটা কমে যায়, যা পুনরায় বেড়েছে। গেল সপ্তাহে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের অংশগ্রহণ ছিল ১৭ শতাংশ। আলোচিত সময়ে খাতটির দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের অংশগ্রহণ ছিল ১৩ শতাংশ। চলতি মাসের শুরুতে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের দখলে ছিল ২১ শতাংশ। ওই সময় খাতটির দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০৯ কোটি টাকা।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের লভ্যাংশের মৌসুম চলছে। আর এ সময়ে এসব খাতের শেয়ারদরে ইতিবাচক প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তখনই বোঝা যায়, এসব শেয়ার অতীতে অতিমূল্যায়িত হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ।
এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংক-বিমা ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশের মৌসুম চলছে। কিছু কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। বিনিয়োগকারীরা আশানুরূপ লভ্যাংশ না পেলে শেয়ারে বিনিয়োগের আগ্রহ হারায়। এতে লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে গেল সপ্তাহে আর্থিক খাতের পিই রেশি ১৫ দশমিক ৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। আগের সপ্তাহে এ খাতের পিই রেশিও ছিল ১৫ দশমিক সাত পয়েন্টে। চলতি মাসের শুরুতে আর্থিক খাতের পিই রেশিও ছিল ১৬ দশমিক শূন্য পয়েন্টে। অপরদিকে গেল সপ্তাহে ব্যাংক খাতে পিই রেশিও ৯ দশমিক এক পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগে সপ্তাহে খাতটির পিই রেশিও ছিল ৯ দশমিক শূন্য পয়েন্টে এবং মাসের শুরুতে খাতটির পিই রেশিও ছিল আট দশমিক ৯ পয়েন্টে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যতদিন পর্যন্ত পিই রেশিও ১৫-এর ঘরে বা তার আশেপাশে থাকে, ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ। সে হিসেবে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পিই রেশিও নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাজারে ব্যাংক খাতের ৩০টি এবং আর্থিক খাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর হিসাব বছর শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরে। সে হিসেবে বর্তমান সময়ে আলোচিত খাতের কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের মৌসুম চলছে।