ধীরগতিতে সংশোধন হচ্ছে বাজার

 

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজার গতকালও সংশোধন প্রবণতায় ছিল। আগের দিন গ্রামীণফোনের রেকর্ড দরবৃদ্ধি সূচককে চাঙা রাখে। কিন্তু গতকাল গ্রামীণফোনের দরপতন সূচকের গতি নিম্নমুখী করে দেয়। তবে প্রধান সূচক কমলেও শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক এবং বাছাই করা ৩০ কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত সূচকের নতুন উচ্চতায় ওঠার রেকর্ড অব্যহত ছিল। গতকাল লেনদেন ও বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে সংশোধন হলেও তা হচ্ছে ধীরগতিতে। কিছুদিন ধরে সূচকের উত্থানের পর গতকালের সংশোধনকে স্বাভাবিক মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

গতকাল ব্যাংক খাতে ২৩ শতাংশ বা প্রায় ২৩০ কোটি টাকা লেনদেন হলেও এ খাত থেকে মুনাফা তুলে নেন বিনিয়োগকারীরা। যার কারণে এ খাতের ২৬ কোম্পানি দরপতনে ছিল। তিনটির দর অপরিবর্তিত ছিল এবং একমাত্র ব্র্যাক ব্যাংক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এর দর বেড়েছে ৭০ পয়সা। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১২৬ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ। কয়েক দিন ধরে মন্দা গেলেও গতকাল বিনিয়োগ বেড়েছে এ খাতে। ২১ কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ২৪টির। প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসে। আর্থিক এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১১ শতাংশ করে লেনদেন হয়। আর্থিক খাতে ছিল মিশ্র প্রবণতা। আগের দিন দর বাড়াতে অনেকগুলো কোম্পানি থেকে গতকাল মুনাফা তুলে নেওয়া হয়। যার কারণে এ খাতের ১১ কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে ১২টির। ওষুধ ও রসায়ন খাত ইতিবাচক ছিল। এ খাতের ২৮ কোম্পানির মধ্যে ১৯টির দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর মধ্যে কোহিনুর ক্যামিকেল আট দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। ছোট খাতগুলোর মধ্যে গতকালও ইতিবাচক ছিল সিমেন্ট ও পাট খাত। সিমেন্ট খাতের লাফার্জ সুরমার লেনদেন ও দর দুটোই বেড়েছে। লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির হোলসিম কোম্পানি কেনার বিষয়টি এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়। এ খবরে শেয়ারটির দর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়ছে। পাট খাতের নর্দার্ন জুট ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করায় শেয়ারটির দর বাড়ে আট টাকা ১০ পয়সা। আর্থিক বছর শেষ হওয়ায় সোনালি আঁশের শেয়ারদর বাড়ছে। তবে পতনে ছিল এ খাতের জুট স্পিনার্স।

গতকাল আইসিবি, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ সুরমার মতো বড় মূলধনি কোম্পানির দরবৃদ্ধি সূচককে ইতিবাচক করতে পারেনি। লেনদেনে নেতৃত্ব দেওয়া লংকাবাংলা প্রায় ৪৬ কোটি টাকার, লাফার্জ সুরমা ৩৫ কোটি, স্কয়ার ফার্মা ৩২ কোটি, সিএমসি কামাল ২৫ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ২৩ কোটি, যমুনা অয়েল ২০ কোটি এবং সিটি ব্যাংকের ১৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দুর্বল কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেড ক্যাটাগরির সমতা লেদার ছয় দশমিক ৮৯ শতাংশ ও সাভার রিফ্র্যাক্টরিজের দর বেড়েছে ছয় দশমিক ৭৭ শতাংশ।