হোম সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ান চালের বাজারে

নজরদারি বাড়ান চালের বাজারে


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

‘আবারও চতুর্মুখী সংকট চাল বাজারে!’ শিরোনামে যে খবর প্রকাশ হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা আমাদের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না করে পারে না। অস্বীকার করা যাবে না, চলতি বছর দফায় দফায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাল উৎপাদন। প্রথমে হাওরের বন্যায় বোরো উৎপাদন ক্ষতির শিকার হয়। পরে উত্তরাঞ্চলের বন্যায় তলিয়ে গেছে আউশ ও আমন ফলন। খেয়াল করার বিষয়, বোরো উৎপাদনে ক্ষতির সঙ্গে বাজারে বাড়ছিল চালের দাম। তবে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। সেটি অপ্রতুল বলে অভিযোগ ছিল অনেকের। অবশ্য উত্তরাঞ্চলে বন্যার পর আমদানি-সীমা বাড়ানো হয় আরও। বেসরকারিভাবে চাল আমদানিতে যে প্রতিরোধমূলক শুল্কহার বসানো হয়েছিল, তাও নামিয়ে আনা হয় তলানিতে। অবস্থাদৃষ্টে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকেও চাল সংগ্রহ শুরু করে সরকার। এতসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও রোধ করা যাচ্ছে না চালের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। চাল আমাদের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য। এর দাম বাড়তে থাকলে খাদ্যপণ্যে তথা সার্বিক মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় প্রবণতাটি উদ্বেগ সৃষ্টি করে সমাজে।

প্রশ্ন হলো, নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও কেন বাড়ছে চালের দাম? এর সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা যায়। প্রথমত, যে পরিমাণ চাল অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ করা উচিত ছিল, সেটি করা যায়নি; তার সুযোগ নিয়েছেন একশ্রেণির ব্যবসায়ী। দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। একে চালের দর বৃদ্ধির অজুহাত হিসেবে নিচ্ছেন স্থানীয় মজুতদাররা। তৃতীয়ত, চাল আমদানির ওপর যতটা নজরদারি রাখা উচিত ছিল, সেটি করতে পারেনি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতীয় রফতানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে তাদেরও বাড়াতে হচ্ছে। এদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানিকারকরা ভারত থেকে কেবল আতপ ও মোটা চাল আমদানি করছেন; তাই সরু চালের দাম না বাড়িয়ে উপায় কী! অথচ খুচরা ব্যবসায়ীদের ধারণা, ওসব কিছু নয়Ñচলমান প্রেক্ষাপটে চালের দাম বাড়াচ্ছে ‘সিন্ডিকেট’! সমস্যা আসলে কোন প্রান্তে, তা বোঝার উপায় নেই। সবাই একে অন্যের ওপর দোষ চাপানোয় ব্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে মাথায় রাখা দরকার, আমাদের চালের অন্যতম রফতানিকারক প্রতিবেশী ভারতে সাম্প্রতিক বন্যায় চালের দাম বেড়েছে। তবে ওই দাম বৃদ্ধির মাত্রা স্থানীয় আমদানিকারকদের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। ভিয়েতনাম, মিয়ানমার থেকেও চাল আমদানি করা হচ্ছে। সেগুলোর প্রভাব বাজারে কেমন পড়েÑতাও যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক ব্যবসায়ীর দাবি, ভারত থেকে মোটা ও আতপ চাল আমদানির কারণে চালের দাম কমছে না। এটিও বিশ্লেষণের দাবি রাখে। কেননা মোটা চালের দামের প্রভাব রয়েছে গোটা চাল বাজারে। এক্ষেত্রে মোটা চাল সরু চালের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারছে না কেন, তার অনুসন্ধান জরুরি। আরেকটি বিষয়, সাম্প্রতিক বন্যায় অভ্যন্তরীণ চাল উৎপাদন ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বাস্তবতা মেনে না নিয়ে উপায় কোথায়! আর যত ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, ওই ক্ষতির একটা প্রভাব অন্তত দামের ওপর থাকবে। তাই বলে চালের দামকে বল্গাহীনভাবে বাড়তে দেওয়া যায় না। এ অবস্থায় এ খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজারের ওপর কঠোর নজরদারি দরকার।