সম্পাদকীয়

নতুন নোটের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ হোক

নোট ছাপানো ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নাকের ডগায় অবৈধভাবে চলে নতুন নোটের বাণিজ্য। এ বাণিজ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বিব্রতকর। সারা বছর এ বাণিজ্য চলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বটতলা গেটের সম্মুখে; অথচ পাশেই রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি। তাই নতুন নোটের অবৈধ বাণিজ্যে পুলিশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার সন্দেহ রয়েছে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। দুই ঈদের আগে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এ অবৈধ খাতে। রাজধানীর গুলিস্তানে ও সেনাকল্যাণ ভবনের সামনেও রয়েছে এর বিশাল বাজার। বাংলাদেশ ব্যাংক তাই ব্যবস্থা নিতে পুলিশের দারস্থ হয়েছে। এমনকি কোনো সুরাহা না দেখে তারা দ্বিতীয়বার চিঠিও দিয়েছে।
ঈদের মতো বড় উৎসবে সালামি বা উপহার হিসেবে বাচ্চাদের নতুন টাকার প্রতি থাকে বাড়তি আকর্ষণ। এটাকেই পুঁজি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও বাইরের কিছু কুচক্রী এ কাজে লিপ্ত থাকে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক এই গ্রাহক চাহিদা মেটাতে প্রতি বছরের মতো এবারও ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছেড়েছে ৩০টি ব্যাংকের মাধ্যমে। গ্রাহক এ টাকা যে কোনো ব্যাংক থেকে সমমূল্যে সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু কোনো মুদ্রা বেশি কিংবা কম দামে বিক্রি করা আইনত অবৈধ হলেও চক্রটি বিভিন্ন কয়েন ও টাকার নোট, বিশেষ করে ১০ টাকার নোটের বান্ডিল ১০০০ টাকা ১১০০ টাকায় বিক্রি করছে। উল্লেখ্য, সারা দেশের গ্রাহক প্রতিটি ব্যাংক থেকে পুরোনো ও ছেঁড়া-ফাটা নোট প্রায়ই নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
উৎসবের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়কৃত নতুন টাকা প্রত্যেক সাধারণ গ্রাহকের অন্তত ১২ হাজার টাকা উত্তোলনের অধিকার থাকলেও নানা জটিলতায় ব্যাংক থেকে নতুন টাকা উত্তোলন কষ্টকর হয়ে যায়। ফলে গ্রাহক ওইসব চক্রের কাছ থেকে বেশি টাকায় নতুন টাকা কিনতে বাধ্য হন। একটি দৈনিকের সরেজমিন প্রতিবেদনে এ চক্রে ৪০ সদস্য কাজ করছে বলে জানা যায়। এমনকি তার সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতাও উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সিবিএ’র কয়েকজন নেতা ও কাউন্টারের কর্মীরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল বাইরের চক্রকে নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের ওপর দায়িত্ব দিয়েছে। অবশ্য গত বছর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে নতুন টাকা বদলে ফেলার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর ও বাইরের সিন্ডিকেট সদস্যদের উচ্ছেদ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। পুলিশের কর্তাব্যক্তি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ অবৈধ ‘টাকা বাণিজ্যের’ সিন্ডিকেট ভাঙতে অচিরেই সচেষ্ট হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..