প্রচ্ছদ শেষ পাতা

নতুন নয়, চলমান প্রকল্পেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ

মাসুম বিল্লাহ: আগামী ৩০ জুন শেষ হবে ২০১৮-১৯ অর্থবছর। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পরবর্তী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বুধবার নীতিমালা প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। নীতমালায় এবার নতুন প্রকল্প নেওয়ার চেয়ে চলমান প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও এ ধরনের তাগিদ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন মেলেনি।
নীতিমালায় প্রকল্প বাস্তবায়ন ও গ্রহণের বিষয়ে অনেক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কেবল অনুমোদিত প্রকল্প বরাদ্দসহ এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রশাসনিক আদেশ জারি ব্যতীত কোনো প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব না করা। এছাড়া রয়েছে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও কাক্সিক্ষত সুফলপ্রাপ্তি বিবেচনায় এডিপিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের চেয়ে চলমান প্রকল্প যথাসময়ে সমাপ্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া।
প্রতিবছর এডিপি প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্টদের এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে এমন নির্দেশনার প্রতিফলন তেমন দেখা যায় না। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়নের আগেও এমন নির্দেশনা ছিল, কিন্তু বছরব্যাপী অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলো সংশোধিত এডিপিতে যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে মোট প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯১৬টিতে। অথচ মূল এডিপিতে মোট প্রকল্প ছিল এক হাজার ৪৫১টি। আরএডিপিতে প্রকল্পসংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ নতুন করে যুক্ত হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক প্রকল্প কাক্সিক্ষত বরাদ্দ পায়নি বলে জানা গেছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বেশি সংখ্যক প্রকল্প গ্রহণের বিরোধিতা করে আসছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, এভাবে প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে প্রকল্পসংখ্যা বেড়ে গেলে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল পাওয়া কঠিন। পাশাপাশি প্রকল্পে বরাদ্দও কমে যায়। ফলে বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হতে থাকে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সক্ষমতা অনুযায়ী প্রাধিকার মোতাবেক কম সংখ্যক প্রকল্প নিয়ে সেগুলো সময়মতো ও গুণগত বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
নীতিমালায় আরও যেসব বিষয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা হলো ২০১৯-২০ অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করে তালিকা সন্নিবেশিত করা; পরিকল্পনা শৃঙ্খলা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আরএডিপিতে চলতি অর্থবছরের মধ্যে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত কোনো প্রকল্প ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব না করা; যেসব প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হবে, সেগুলো ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব না করা; এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন উন্নয়ন সহায়তা খাতগুলোর অনুকূলে পূর্ববর্তী বছরগুলোর বরাদ্দ ও অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত ছকে বাস্তবভিত্তিক বরাদ্দ প্রস্তাব করা; এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প এবং বৈদেশিক সাহায্যপ্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের দুটি তালিকা সংযুক্ত করা এবং এডিপিতে পৃথক তালিকা হিসেবে সংযুক্তির জন্য অনুমোদিত ও বাস্তবায়নাধীন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) প্রকল্পের একটি তালিকা পাঠানো।
এখানে চলতি অর্থবছরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে এমন প্রকল্প ও আরএডিপিতে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলো নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে বলা হলেও বাস্তবে এর আগের অর্থবছরগুলোয় এমন প্রকল্প নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির নজির রয়েছে। নতুন করে এমনটি যাতে না হয়, সে বিষয়ে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বরাদ্দ ব্যাতীত এবার মূল এডিপির আকার ছিল এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা অংশে বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে সরকারি তহবিলের অংশে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে এক হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সংশোধিত এডিপিতে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকল্পসহ মোট বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প রয়েছে এক হাজার ৯১৬টি। মূল এডিপিতে মোট প্রকল্পসংখ্যা ছিল এক হাজার ৪৫১টি। প্রকল্প বেড়েছে ৪৬৫টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প এক হাজার ৬২৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১৫৪টি, জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প দুটি এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়িত প্রকল্পসংখ্যা ১৩১টি।

সর্বশেষ..



/* ]]> */