নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য মিউচুয়াল ফান্ডই উত্তম

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজার বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছিল। সে সময় বড় ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে। কারণ তখন বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের তেমন ধারণা ছিল না। ওই অবস্থা থেকে বর্তমানে পুঁজিবাজার অনেক উন্নত হয়েছে। এখন পুঁজিবাজার বিষয়ে অনেক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় অনেক সচেতন। তবে যারা নতুন বা যাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে জ্ঞান কম, তারা ভালো মানের মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ সম্পর্কে ধারণা বাড়বে এবং লোকসান কমবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। মো. ছায়েদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন এ্যাংকর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ জেড এম নাজিম উদ্দিন এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিইও ফাহমিদা হক। স্কাইপে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেডের পরিচালক ও সিইও মো. মঈন উদ্দিন

নাজিম উদ্দিন বলেন, অর্থনীতিতে দুটি খাত। একটি ফাইন্যান্সিয়াল খাত অন্যটি সিকিউরিটিজ খাত। সামগ্রিক অর্থনীতির সব দিক বিবেচনা করলে এ দুটি খাত এসে যায়। অর্থনীতিতে বিশেষ করে ব্যাংক খাতের কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংকের প্রতি মানুষের অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে ব্যাংকে টাকা রাখাকে নিরাপদ মনে করছিল না তারা। ব্যাংক খাতের এ অবস্থা দুঃখজনক। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মানুষের মনে ব্যাংকের প্রতি আস্থা তৈরি করতে হবে। তবে সব ব্যাংকের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেনি। অনেক ব্যাংকই ভালো করছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার হোঁচট খেয়েছিল। এটা বড় ধরনের একটি কেলেঙ্কারি ছিল।  তখন মার্কেট সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা তেমন অবগত ছিল না। ওই অবস্থা থেকে বর্তমানে পুঁজিবাজার অনেকটা উন্নত হয়েছে। এখন পুঁজিবাজার বিষয়ে অনেক প্রশিক্ষণ হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় অনেক সচেতন।

তিনিও আরও বলেন, ভালো কোম্পানি মার্কেটে আনতে হবে; সেক্ষেত্রে বাজার মূলধন বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হবে।

তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন,  যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন তার উদ্যোক্তা কারা? পরিচালনা পর্ষদে কারা আছে? পরিশোধিত মূলধন কত? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? শেয়ারপ্রতি আয় কতÑএগুলো দেখে বিনিয়োগ করুন।

ফাহমিদা হক বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় এখন অনেক সচেতন। কখন কোন শেয়ার কিনতে হবে এবং কখন লোকসান থেকে বের হতে হবে, তা এখন বুঝতে পারে। কারণ পুঁজিবাজার বিষয়ে এখন অনেক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, নতুন ভালো কোম্পানি বাজারে আনা জরুরি। সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ হচ্ছে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু এর বাইরেও যেসব নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে তাদের কার্যকলাপে অনেক সময়ে পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়ে, যেটা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানতেও পারে না। বিএসইসির  সঙ্গে অন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের জায়গাটা আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। তা হলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হয়।

ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের কিছু সুবিধা দিতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম, ভ্যাট কমাতে হবে। বাজারে আসার জন্য কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে জ্ঞান কম তারা ভালো মানের মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ সম্পর্কে ধারণা বাড়বে এবং লোকসান কমবে।

মঈন উদ্দিন বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থার বিষয়টি জরুরি।   সাধারণত দুটি কারণে আস্থার সংকট দেখা দেয়। প্রথমত, শেয়ারের দাম যখন কমতে থাকে তখন অনেকেই মনে করে এটা দীর্ঘস্থায়ী হবে। আবার যখন দাম বাড়তে থাকে তখনও আশা করে এটা দীর্ঘস্থায়ী হবে। কিন্তু পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম কমবে, আবার বাড়বেÑএটাই নিয়ম। ইতিবাচক ও নেতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর। কোম্পানিগুলোতে করপোরেট গভর্ন্যান্স থাকার পরও এখানে অনেক দুর্নীতি হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব দুর্নীতির তদন্ত হয় কিন্তু বিষয়গুলো আমরা জানতে পারি না। এ কারণে অনাস্থার সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, গত দশ বছরের অভিজ্ঞতায় পুঁজিবাজারে অনেক সমস্যা দেখেছি। তবে বর্তমানে অনেক উন্নত হয়েছে। বিএসইসি অনেক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে কিছু কিছু জায়গা আরও উন্নত করতে হবে।