সম্পাদকীয়

নদী রক্ষায় হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিন

আবহমান কাল ধরে নদীমাতৃক বাংলাদেশে মানুষের জীবিকা নির্বাহ, ব্যবসা, পরিবহন, খাদ্যের সংস্থানসহ নানা ক্ষেত্রে নদীর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কিন্তু নানা কারণে নদীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতি তো হচ্ছেই, আমাদের নানা কর্মকাণ্ডও নদী ধ্বংসে ভূমিকা রাখছে। প্রভাবশালী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এমনকি জনপ্রতিনিধিদের দখলদারিত্বের ভূমিকাই এতে বেশি। সর্বশেষ দেশের সর্বোচ্চ আদালত নদী রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। নদী রক্ষার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এর সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন হলে নদী রক্ষার পথ সুগম হবে বলে আমরা মনে করি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘নদী-খাল দখলকারীরা নির্বাচনের অযোগ্য হবেন: হাইকোর্ট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নদীকে জীবন্তসত্তা হিসেবে ঘোষণা করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বেশকিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত। এতে নদী দখলদার ও নদী ভরাটকারীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নদীকে জীবন্তসত্তা হিসেবে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ আদেশ অত্যন্ত সময়োপযোগী সন্দেহ নেই। এখন এ রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকার এবং কমিশনের।
নদী-সংক্রান্ত এ রায়ে একটি বিষয় স্পষ্ট, নদী নিয়ে সচেতন নাগরিক থেকে সর্বোচ্চ আদালত, সব পক্ষই উদ্বিগ্ন। নদীগুলো রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা ভালো ফল বয়ে নিয়ে আসবে না। অর্থনীতিও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বৈকি। অতীতে দেখা গেছে, প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী কিংবা জনপ্রতিনিধিরা নানা অপরাধে জড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। রক্ষকই যদি ভক্ষক হন, তখন সমস্যা আরও জটিল হয়। সে বিবেচনায় হাইকোর্টের রায় অবহেলার সুযোগ নেই।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, মানুষের জীবন-জীবিকা নদীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানবজাতি টিকে থাকার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নদী। নাব্য সংকট ও বেদখলের হাত থেকে নদী রক্ষা করা না গেলে বাংলাদেশ তথা মানবজাতি সংকটে পড়তে বাধ্য। নদী রক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে জাগরণ শুরু হয়েছে। এখন সবারই ভাবনা, পরিবেশের জন্য নদী রক্ষা করতে হবে। এটাই এখনকার বাস্তবতা। চলতি বছরই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে তীব্র দাবদাহে পুড়ছে বিশ্ব, বাংলাদেশও। এজন্য নদী রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। নদী, বনভূমির মতো প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতিতে যারাই জড়িত থাকুন না কেন, সবার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সর্বশেষ..