সম্পাদকীয়

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নীতিমালা করুন

দেশের ব্যাংক খাতে এখন সবচেয়ে বড় সংকট খেলাপি ঋণ সংস্কৃতি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকও ধুঁকছে মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের কারণে। এমনকি অনেক ব্যাংক বড় অঙ্কের চেক ক্যাশ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক খাতের জন্য নতুন করে দুঃসংবাদ বয়ে আনছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি হতাশাজনক। আর্থিক খাতের সব ক্ষেত্রে এমন দুরবস্থা কাম্য নয়।
দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান: পুনঃতফসিল জটিলতায় খেলাপি ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, নানা অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে দেশের ডজনখানেক ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক (এনবিএফআই) প্রতিষ্ঠান। এসব অনিয়মের অন্যতম উৎস হচ্ছে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে। আর খেলাপি হওয়া ঋণও পুনঃতফসিল করতে ইচ্ছামাফিক সময় নির্ধারণ করছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এসব ঋণের অর্থ আদায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এছাড়া ইচ্ছা অনুযায়ী তিনবারের বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। বিষয়টি রীতিমতো হতাশাজনক। এমনিতেই ব্যাংক খাতের নানা অনিয়ম নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে নতুন করে ব্যাংকবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের কেলেঙ্কারি উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেবে বৈকি।
ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নীতিমালা রয়েছে। সেই নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ঋণ সর্বোচ্চ তিনবার পুনঃতফসিল করতে পারে ব্যাংকগুলো। এজন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে। কিন্তু এনবিএফআই’র বেলায় এমন কোনো নীতিমালা নেই। বিষয়টি হতাশাজনক। কারণ দেশে বর্তমানে ৩০টির অধিক ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কাজেই সেগুলোর জন্য একটি নীতিমালা থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ধরনের নীতিমালা না হওয়াটা দুর্ভাগ্য। নীতিমালা না থাকায় যে যার খেয়াল-খুশিমতো আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এভাবে চলতে থাকলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে সন্দেহ নেই। ব্যাংক খাতের জন্য নানা ধরনের নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের অপব্যাংকিং কার্যক্রম রোধ করা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে যে খাতের জন্য কোনো নীতিমালা নেই, সেখানে বিশৃঙ্খলা আরও বেশি হওয়ার শঙ্কা থেকেই যায়। তবে আশার কথা হলো দেরিতে হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছে। এখন সেই উপলব্ধি থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এ খাতের জন্য একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..



/* ]]> */