বাণিজ্য সংবাদ

নরসিংদীতে শেষ সময়ে জমে উঠেছে ঈদ কেনাকাটা

গাজী মাহমুদ, নরসিংদী:ঈদের বাকি আর মাত্র ক’দিন। ধনী-গরিব সবারই সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন জামা-কাপাড় পড়ে ঈদ উৎসব পালন করে। মধ্য রমজান পর্যন্ত নরসিংদীর বিপণিবিতাগুলোতে বেচাকেনা তেমন জমে না উঠলেও শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। জেলা সদরসহ ছয় উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইফতারের সময় ছাড়া সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। রোজার শুরু থেকেই বাতিল করা হয়েছে মার্কেটের সাপ্তাহিক ছুটি।
নরসিংদী শহরের অন্যতম বিপণিবিতান ইনডেক্স প্লাজা, সুলতান উদ্দিন শপিং কমপ্লেক্স, কাজী মার্কেট, মুন্সী নিয়াজ মার্কেট, শশী প্লাজা, ইসলাম প্লাজা, নয়ন তারা প্লাজা, হাজেরে টাওয়ার, ইজিফ্যাশন, টাইলাস, কালিবাড়ী মার্কেটসহ ছোট বড় সব বিপণিবিতান ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শো-রুমে প্রতিদিনই পছন্দের কাপড় ও জুতা কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শহরের যানজটও।
নরসিংদী শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতান ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শো-রুম ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ বাজারে এসেছে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় সব পোশাক। তবে এবার ভারতীয় ‘টিভি সিরিয়ালের’ নামে পোশাকের ছড়াছড়ি খুব একটা নেই। বরাবরই ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের এসব সিরিয়াল নামীয় পোশাকের কাছে কিছুটা মার খায় দেশীয় তৈরি পোশাক।
এবার দেশীয় তৈরি অনেক মানসম্মত ও পছন্দসই ডিজাইনের কাপড়ের কমতি নেই বাজারে। বিশেষ করে দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড আধুনিক ডিজাইনে তৈরি করেছে সব ধরনের পোশাক। এসব ব্র্যান্ডের বেশিরভাগেরই শো-রুম রয়েছে নরসিংদী শহরে।
এছাড়া পাঞ্জাবি, শার্ট, গেঞ্জি, ফতোয়া, থ্রি-পিস, টুপিস ও শিশুদের জন্য সব ধরনের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে শহরের দোকানগুলোতে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় মার্কেটে চাকরিজীবীদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা। তবে ক্রেতাদের বেশিরভাগই নারী। রোজার মাস হওয়ায় দিনের বেলা ও রাতেই ক্রেতা সমাগম বেশি হচ্ছে।
কাপড় কেনার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জুতার বিক্রি। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জুতার দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভিড় বাড়ছে প্রসাধনীর দোকানগুলোতেও। এবার ঈদের পোশাকের দাম খুব একটা বাড়েনি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এছাড়া শহরের ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো থেকে কেনাকাটা সারছেন নিন্ম আয়ের মানুষেরা।
ক্রেতারা বলছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও পোশাক ও জুতার দাম কিছুটা বাড়তি। তবে তা সাধ্যের বাইরে নয়। তবে পরিবারের সবার পোশাক পছন্দ করতে গিয়ে বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরতে হচ্ছে বারবার। একই মার্কেট থেকে সব কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কেটগুলোও শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এতে করে যানজট সমস্যার ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।
নরসিংদী শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডের কাজী মার্কেটের নিউ তুষার গার্মেন্টের স্বত্বাধিকারী মলয় কুমার বর্মণ বলেন, বছরজুড়ে ঈদের সময়টিতে একটু বেশি বিক্রির আশায় থাকেন কাপড় ব্যবসায়ীরা। এ বছর গরমকে গুরুত্ব দিয়ে টিস্যু কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রিপিস, ফ্রকস্টাইলের আকর্ষণীয় পোশাকসহ শার্ট, পাঞ্জাবির সংগ্রহ রয়েছে। বেচাকেনাও আশাব্যঞ্জক।
শহরের স্টেশন রোডের ফেমাস ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী খসরু মাহমুদ বলেন, এবারের ঈদের বেচাকেনা অনেকটাই সন্তোষজনক। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা সমাগমও বাড়ছে।
মুন্সী নিয়াজ মার্কেটের রাজিব বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী সামসুল আলম স্বপন বলেন, আমরা এ ঈদ বাজারে বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের বয়েল, পপলিন ও লিলেনের থান কাপড় বিক্রি করছি। এগুলো দিয়ে ক্রেতারা তাদের পছন্দের ডিজাইনে জামা ও শার্ট তৈরি করবেন বিধায় রোজার শুরুতেই আমাদের ঈদের বাজার শুরু হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বিক্রি ভালো।
এদিকে শহরে ঈদের বেচাকেনাকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।

 

 

সর্বশেষ..