মত-বিশ্লেষণ

নাইজেরিয়ার গোষ্ঠীপ্রধান হলেন চীনা প্রকৌশলী

ম্যান্ডি জুও: চীনা প্রকৌশলীকে জিভা জেলার আমির পদে বসিয়ে দেওয়া হলো কেবল তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। ওই চীনা প্রকৌশলী নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজার অবকাঠামো উন্নয়নে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছেন।
চীনের কেন্দ্রীয় ভূখণ্ডের একজনকে ডেকে এনে নাইজেরিয়ার আদিবাসীদের প্রধান বানিয়ে দেওয়া হলো। তবে তিনি ওই এলাকার মানুষের কাছে একেবারেই অচেনা কেউ নন। তিনি আফ্রিকার দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছিলেন।
মানুষটির নাম কোং টাও। বয়স ৩৪। তাকে নাইজেরিয়ার রাজধানীর আবুজার অন্তর্গত জিভা জেলার আমির পদে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। এটা গত মাসের ঘটনা। তবে তারও ৯ বছর আগে তার কোম্পানি প্রকৌশল কাজের দায়িত্ব দিয়ে তাকে পাঠিয়েছিল শহরটিতে। মূলত এটা ছিল একটি রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্প। এ বিষয়ে গত রোববার একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দাহি ডেইলিতে। চীনের হেনান প্রদেশের পাইয়ুং থেকে তিনি এসেছেন। তিনি এখন চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের নাইজেরিয়া শাখার পরিচালনা বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার।
এত বছর ধরে কং ও তার দল আবুজাতে দুটি প্রধান রেলপথ নির্মাণ করেছেন। দুটি জনচলাচল পথ তিনি মেরামত করেছেন। একটি গ্রামের সকার মাঠ ও একটি বিদ্যালয়ের জন্য তিনি তিনটি ভবন নির্মাণ করেন। এ বিষয়ে রোববারের প্রতিবেদনে বিস্তর বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কং বেইজিং টাইমসের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, ‘সেখানকার আমির আলহাজ ইদ্রিস মাসুম মূলত তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চেয়ে আমাকে এই সম্মানটি দিয়েছেন। কারণ আমরা এ অঞ্চলে যে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেছি এবং আমাদের বিভিন্ন প্রকল্পের বহুমুখী যেসব কাজ এখানকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছে, তা এককথায় বলতে গেলে আমির আলহাজ ইদ্রিস মাসুমের দায়-কর্তব্যের জন্য কল্যাণ বয়ে এনেছে।’
‘চীনারা আসলে এখানে অনেক বড় প্রভাব রেখে চলেছে,’ কং তার মন্তব্যে আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক অধিবাসীরা চায়, আমাদের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক বজায় রাখতে।’
পদাধিষ্ঠিত এই কার্যনির্বাহী প্রধানের দায়িত্বটি স্থায়ী; কিন্তু কং বলেন, এটা সম্মান ও দায়িত্বের চেয়েও বেশি কিছু। এই মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি আরও অনেক কথায় আসেন। একসময় তিনি তার নিজের অবস্থান খোলাশা করে বলেন, ‘আমি কখনোই সরাসরি তাদের আঞ্চলিক বিষয়-আশয়ের মধ্যে নাক গলাতে যাব না।’
কংয়ের এই গল্প উইবো ও টুইটারের মতো চীনা মাইক্রোব্লগ সার্ভিসে প্রকাশ পেয়েছে। এসব প্রচার মাধ্যমে কংয়ের গল্পের ১৮০ মিলিয়ন দর্শক সমাগম হয়েছে এবং ১০ হাজার জন মন্তব্য করেছেন। এমনকি অনেক দর্শক কংকে থাম্বস দিয়ে প্রশংসা করেছেন।
তবে হ্যাঁ, এ ধরনের গল্প চীনাদের মধ্যে এই প্রথম নয়। এর আগেও চীনারা এমন সম্মান অর্জন করেছেন, যার ইতিহাস রয়েছে।
গত ডিসেম্বরের লি মানহুর কথায় আসি। লি মানহু হলেন সিজিসিওসি গ্রুপের নাইজেরিয়া শাখার একজন কর্মকর্তা। এই সিজিসিওসি গ্রুপটি হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানি। যাহোক, লি মানহু ডিসেম্বরে কংয়ের মতো একই ধরনেরই সম্মানে ভূষিত হলেন। লি মানহুকে সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত করেছেন এটুংয়ের আমির। এটুং হলো দক্ষিণ নাইজেরিয়ার ক্রস রিভার প্রদেশের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।
এই খবর ছাপিয়েছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। সিনহুয়া সংবাদমাধ্যমে ২৭ বছর বয়সি লি মানহুর এই পদমর্যাদা লাভের কারণ হিসেবে তার প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ববোধ ও সফলতার বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নাইজেরিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী ক্যামেরুনের একটি সেতু যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে এই অঞ্চলের অধিবাসীর জন্য একটি বিশাল বড় সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।
এবার হু জিগুয়োর কথা বলা যাক। জিগুয়ো ২০০১ সালে একটি গোষ্ঠীপ্রধান হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তিনিও সেখানকার স্থানীয় সমাজের জন্য অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এই হু জিগুয়োই ছিলেন প্রথম কোনো চীনা প্রবাসী, যিনি নাইজেরিয়া থেকে এমন কোনো সম্মানজনক পদ লাভ করেছিলেন।
প্রথম জীবনে হু জিগুয়ো ছিলেন সাংহাইয়ের একজন ইংরেজির শিক্ষক। তিনি ১৯৭৫ সালে নাইজেরিয়া গিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি তার বাবার মালিকানাধীন টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করতেন। পরে তিনি একটি চীনা রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন, সেইসঙ্গে বেশ কিছু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

চীনা সাংবাদিক, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
ভাষান্তর: মিজানুর রহমান শেলী

সর্বশেষ..