সারা বাংলা

নাগরপুরে বোরো ধানের ভালো ফলনের সম্ভাবনা

শাহরিয়ার সিফাত, টাঙ্গাইল: কদিন পরই টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় বোরো ধান কাটার ধুম পড়বে। এরই মধ্যে কৃষক আগাম রোপণকৃত বোরো ধান কাটতে শুরু করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক।
নাগরপুর কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এতে বিআর-২৮, বিআর-২৯, ধানি গোল্ডসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, দিগন্ত জুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। বেশিরভাগ ক্ষেতের ধানের ছড়া পাকতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কয়েকজন কৃষক জানান, আর কয়েকটা দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন ঘরে তুলবেন তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাও এমনটাই প্রত্যাশা করছেন।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, তারা আগে ধানচাষে সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এতে ফলন কম ও খরচ বেশি হতো। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে ধানে মড়ক লেগে ধান উৎপাদন ব্যাহত হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। এতে ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন চাষাবাদে শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় কম হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন হচ্ছে বেশি।
পোস্টকামরী গ্রামের লুৎফর রহমান, বেটুয়াজানী গ্রামের রফিক মিয়া, সবুর মিয়া, কাশাদহ গ্রামের আজিজ মিয়াসহ অনেক কৃষক জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবার বোরো চাষাবাদে সময়মতো সেচ, সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে পেরেছেন তারা। আর আবহাওয়াও ছিল অনুকূলে। এজন্য ক্ষেতের ফলনও আগের তুলনায় বেশি হবে বলে ধারণা করছেন তারা।
বারাপুষা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ও শাহাজাহান মিয়া জানান, ক্ষেতের ধানের ছড়াগুলো পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েকদিন গেলেই ধান কাটা যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন শাকিল জানান, কৃষি অফিসের সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বাড়ছে উৎপাদনের মাত্রা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বোরো চাষাবাদে বাম্পার ফলন পাবেন।
কৃষি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারসহ নানা দিক তুলে ধরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিএম রাশেদুল আলম জানান, কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছেন। এর সুফল পেয়ে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বছর বছর বাড়ছে ফলন।

সর্বশেষ..