বিশ্ব প্রযুক্তি

না জানিয়ে ১৫ লাখ ব্যবহারকারীর ই-মেইল কন্টাক্ট নিয়েছে ফেসবুক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রায় ১৫ লাখ ব্যবহারকারীর ই-মেইল কন্টাক্ট নিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। তবে এটিকে অনিচ্ছাকৃত বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। বিগত তিন বছরে এভাবে ই-মেইল কন্টাক্ট আপলোড করলেও ব্যবহারকারীদের এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানায়নি ফেসবুক। তবে এখন ভুল স্বীকার করে সেগুলো ভুক্তভোগীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। খবর: রয়টার্স, বিবিসি।
নতুন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য ই-মেইল পাসওয়ার্ড চাচ্ছিল ফেসবুক। ২০১৬ সালের মে মাসের পর থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই সময় থেকে ব্যবহারকারীদের না জানিয়েই তাদের ই-মেইল কন্টাক্ট আপলোড করা শুরু হয়। তবে গত মার্চে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ পাসওয়ার্ড ভেরিফিকেশনের ওই অপশনটি বন্ধ করে দেয় বলে জানিয়েছে।
রয়টার্সের কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফেসবুক বলেছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ১৫ লাখের মতো ব্যবহারকারীর ই-মেইল কন্টাক্ট আপলোড হতে পারে। তবে সেগুলো কারও সঙ্গে শেয়ার করা হয়নি এবং তা ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের শিগগিরই ব্যাপারটি জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও ফেসবুক জানিয়েছে। এছাড়া ওই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তথ্য বেহাত হওয়ার ব্যাপারে সম্প্রতি বিজনেস ইনসাইডার এক প্রতিবেদনে জানায়, একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তার ব্যবহারকারীদের নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় না জানিয়েই ই-মেইল কন্টাক্ট লিস্টের তথ্য নিয়ে ব্যবহার করছে। যখন পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়, তখন ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতেই ওই মেইলের কন্টাক্ট লিস্ট আপনাআপনি আপলোড হতে শুরু করে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বেশ কিছু বড় ধরনের ঘটনার সামনে এসেছে ফেসবুক। এমনকি লাখ লাখ ব্যবহারীর পাসওয়ার্ড এর কর্মীদের সামনে স্পষ্ট ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। এতে বড় ধরনের বিতর্কের মধ্যে পড়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত প্রশ্নের মুখে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা-সম্পর্কিত তথ্য ফাঁস হয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় পড়ে যায়। সে সময় লাখ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার তথ্য সামনে আসে। অথচ এর ব্যবহারকারীরা সে বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) বিশ্বব্যাপী আইন প্রণেতাদের ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। কৌশল করে ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হয়।

সর্বশেষ..