প্রথম পাতা

নিবন্ধন নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান দিয়েছে ভুয়া তথ্য

অনলাইনে ভ্যাট

রহমত রহমান: নতুন ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন (ইলেকট্রনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ই-বিআইএন) শুরু করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরপর থেকে ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠান যে কোনো জায়গা থেকে অনলাইনে আবেদন করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন পেয়ে যেতেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধন নিয়েছে। বিষয়টি এনবিআরের নজরে আসার পর যাচাই ছাড়া স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে
সূত্র জানায়, অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিআইএন চালু হওয়ার পর থেকে গত ১৯ মে পর্যন্ত এক লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। চালু করার দুবছর পর এ পদ্ধতিতে বিআইএন নিতে ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিবন্ধন নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এনবিআর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিবন্ধন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের আলোকে বিআইএন ইস্যু করার আগে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য মাঠ পর্যায়ের ভ্যাট কর্মকর্তারা যাচাই করবেন। একই সঙ্গে তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করবেন। তথ্য ও ঠিকানা সঠিক হলে সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, এরই মধ্যে যেসব নিবন্ধন হয়েছে, তার বেশিরভাগের তথ্যেই গরমিল পেয়েছি। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ভুয়া ঠিকানা, ব্যাংক হিসাবের ভুল তথ্য, আইআরসি ও ইআরসি না থাকলেও ভুয়া তথ্য দিয়ে নিবন্ধন নিয়েছে। আবার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট না থাকলেও কেউ কেউ নিবন্ধিত হয়েছে ম্যানুফ্যাকচার হিসেবে। সেজন্য অটো নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান আইটিপি’র ই-মেইল, মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবেদন নিয়েছে। আমরা বারবার বলেছি, প্রতিষ্ঠানের মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল আইডি দিতে। কারণ, এক নিবন্ধনে যে ই-মেইল ও মোবাইল ব্যবহার করা হবে, তা অন্য নিবন্ধনে ব্যবহার করা যাবে না। তবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য রোধে আমরা কাজ করছি।
তিনি জানান, আগে সারা দেশের ১২টি কমিশনারেটের অধীন ৮৪টি ভ্যাট বিভাগীয় দফতর থেকে নিবন্ধন দেওয়া হতো। এখন ১২টি কমিশনারেট থেকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি আবেদন পেন্ডিং রয়েছে।
আগে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হলে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, এনআইডি নম্বর, ব্যাংকের হিসাব নম্বর, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, টিন সার্টিফিকেট, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য দলিলপত্র বিভাগীয় ভ্যাট অফিসে দাখিল করতে হতো। পরবর্তী সময়ে ভ্যাটের বিভাগীয় কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার) দলিলপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ভ্যাট নিবন্ধন দিতেন। এর মধ্যে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাইজেশনের জন্য ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া শুরু হয়। আর ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই দেওয়া হয় এই ভ্যাট নিবন্ধন। অভিযোগ আসার পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময়ে এক লাখ ৬২ হাজার ৯৬৮ জন অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নেন।
সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের সময় ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে কিন্তু আয়কর দেয় না, তাদের খুঁজে বের করা সহজ হবে। বাজেটের পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার পর এনবিআরের নির্দেশে আমরা অনলাইনে অটো নিবন্ধন দেওয়া বন্ধ রেখেছি। এখন আবেদনের পর যাচাই শেষে সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। তবে তথ্যের গরমিল থাকলে আমরা ই-মেইলে জানিয়ে দিচ্ছি। বাজেটের আগে অনলাইনে অটো নিবন্ধন দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

 

ট্যাগ »

সর্বশেষ..