নিম্নমানের হ্যান্ডসেট বিক্রিতে সিম্ফনিকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিম্নমানের মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি করে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে এডিসন গ্রুপের সিম্ফনি মোবাইলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। গতকাল এ জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আজ দু’পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি হয়। শুনানিতে ভোক্তার অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় সিম্ফনিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ক্রেতা ও একটি বেসরকারি চ্যানেলের সংবাদকর্মী এসএম ফয়েজ শেয়ার বিজকে বলেন, গত ৫ এপ্রিল রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমলের একটি দোকান থেকে সিম্ফনির ভি-৪৬ মডেলের স্মার্টফোন কেনার তিন ঘণ্টা পর তা বন্ধ হয়ে যায়। দোকানে গেলে প্রথমে সেটটি পরিবর্তন করে দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে পুরোনো সেটটিই মেরামত করতে বসুন্ধরা শপিংমলের সিম্ফনি কাস্টমার কেয়ারে নিতে বলা হয়। সেট নিয়ে গেলে কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তারা দুর্ব্যবহার করেন। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে মামলা করার কথা বললে সদস্যরা কটূক্তি করেন। এতে কোনো কিছুই হবে না বলে হুমকি দেন তারা।
পরে সম্প্রতি ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পর গতকাল সিম্ফনিকে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিতে সিম্ফনি আইনজীবী নিয়ে আসে। কিন্তু তিনি প্রতিষ্ঠান ও অভিযোগ সম্পর্কে ভালো কথা বলতে পারেননি। ৩০ মিনিট শুনানি হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শুনানি শেষে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবে আরও অনেক গ্রাহক সিম্ফনি হ্যান্ডসেট কিনে প্রতারিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত বছর পুরান ঢাকায় শোয়েব উল্লাহ নামে এক ক্রেতার সিম্ফনি ডব্লি৬৯কিউ সেটের ব্যাটারিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। এতে তার চাদরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। বিষয়টি সিম্ফনিকে জানালে প্রথমে শোয়েবকে মোবাইল ফোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এর ক’দিন পর শোয়েবকে ফোন করে হেনস্তা করেন কাস্টমার কেয়ারের সদস্যরা। তাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনার এক মাস পরও ভোক্তা অধিকার অধিদফতরে মামলা করতে পারেননি শোয়েব উল্লাহ। এছাড়াও বহু গ্রাহক বিভিন্ন সময় সিম্ফনির নিম্নমানের হ্যান্ডসেট কিনে প্রতারিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।