নিম্নমুখী ধারায় স্বর্ণের দর

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) শীর্ষ এক কর্মকর্তার মন্তব্যের পর ডলারের দাম বেড়ে যায়। আর এতে প্রভাব পড়ে স্বর্ণের দামে। সোমবার মূল্যবান এ ধাতুটির দাম চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছায়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের প্রস্থানের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়াও স্বর্ণের দামে প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর এএফপি।

নিউ ইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (নিমেক্স) কোমেক্স বিভাগে সোমবার ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে আউন্সে স্বর্ণের দাম কমেছে দশমিক চার শতাংশ। ওই দিন প্রতি আউন্স স্বর্ণ লেনদেন হয় এক হাজার ২৪৮ ডলারে। এছাড়া স্পট গোল্ডের দাম দশমিক তিন শতাংশ কমে প্রতি আউন্স লেনদেন হয় এক হাজার ২৪৮ দশমিক সাত ডলারে, যা ২৪ মের পর সর্বনিম্ন।

নিউ ইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডুডলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক কম। শ্রমবাজারের উন্নতির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বাড়ানো দরকার।

ডুডলির এ ধরনের মন্তব্যের পর অন্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। আর এতে প্রভাব পড়ে স্বর্ণের দামে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড। দ্বিতীয় দফায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে সুদের হার। ১ শতাংশ থেকে করা হচ্ছে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০০৮ সালের পর এটি সর্বোচ্চ সুদহার।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজার শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় সুদের হার আবার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেড। অবশ্য চলতি বছরে তিন ধাপে সুদের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে বলে আগেই জানানো হয় ফেডের পক্ষ থেকে।

সাধারণত ডলারের মান যখন দুর্বল হয়ে ওঠে, তখন স্বর্ণসহ নির্ধারিত বিভিন্ন ধাতুতে বিনিয়োগ নিরাপদ বোধ করে বিনিয়োগকারীরা। ফলে ধাতুটির দাম বাড়ে। আর ডলার শক্ত অবস্থানে থাকলে স্বর্ণের দাম কমে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশ্লেষক ডানিয়েল স্মিথ বলেন, ‘ডলার সামান্য শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে।’ তবে এটা কোনো স্থায়ী ঝুঁকি নয় বলেও তিনি মনে করেন।

এদিকে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয় লাভ করলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি থেরেসা মের দল কনজারভেটিভ পার্টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে দলটিকে ৩২৬টি আসনে জয় পেতে হতো। কিন্তু ৬৫০টি আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে ৩১৮টি আসন। অর্থাৎ ঝুলন্ত পার্লামেন্ট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ইইউ’র সঙ্গে ব্রিটেনের ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে একধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।