নিম্নমুখী যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার পুঁজিবাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: খুচরা বিক্রি ও শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির খবরে মার্কিন সরকারি বন্ডের ইল্ড সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছায়। এতে সুদের হার বৃদ্ধির শঙ্কা বেড়ে যায়। এর প্রভাবে মার্কিন পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক বাতিলের হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা এশিয়ার বাজারকে নিম্নমুখী করেছে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, খুচরা বিক্রি ও শিল্পোৎপাদন তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে। এতে সুদের হার বৃদ্ধির শঙ্কা দেখা যায়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত মঙ্গলবার ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন বন্ড ইল্ড বেড়ে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পেঁৗঁছায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মার্কিন পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি এদিন কমেছে দশমিক ৬৮ শতাংশ। অন্য দুই প্রধান সূচক নাসডাক ও ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল
অ্যাভারেজের সূচক কমেছে যথাক্রমে দশমিক ৮১ ও দশমিক ৭৮ শতাংশ।
এদিকে মার্কিন বাজারের নি¤œমুখিতায় এশিয়ার বাজারেও প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক স্থগিতের উত্তর কোরিয়ার হুমকির প্রভাব। পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হলে যুক্তাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করতে পারে বলে হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। আগামী ১২ জুন ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বৈঠক হওয়ার কথা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কোরিয়ার চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার জেরে দক্ষিণের সঙ্গে গতকাল বুধবারের শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ স্থগিত করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বলেছে এ সামরিক মহড়া বিভক্ত কোরীয় উপদ্বীপের উষ্ণ সম্পর্কের জন্য হুমকি।
উত্তর কোরিয়ার এ ঘোষণার পর গতকাল জাপান বাদে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পুঁজিবাজারের সার্বিক সূচক এমএসসিআই সূচক কমেছে দশমিক এক শতাংশ। আর পৃথকভাবে দেখলে এশিয়ার সবচেয়ে বড় পুঁজিবাজার জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে দশমিক ৪৪ শতাংশ। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক কমেছে দশমিক ১৩ শতাংশ। চীনের সাংহাই সূচক কমেছে দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া ভারতের সেনসেক্স ও সিঙ্গাপুরের পুঁজিবাজার সূচক কমেছে যথাক্রমে দশমিক ৪৪ শতাংশ ও দশমিক ২০ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে দুই কোরিয়ার মধ্যে অনিশ্চয়তা আবার বাড়ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকও অশ্চিয়তার মধ্যে পড়ছে। বিনিযোগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এশিয়ার পুঁজিাবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কের মধ্যে উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছিল। বিশেষ করে কিমের দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে করমর্দনের পর সম্পর্ক সঠিক পথেই এগোচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে গতকাল আবার দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দুদেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বন্ধ করেছে উত্তর কোরিয়া।