সম্পাদকীয়

নিম্ন মানের গুঁড়োদুধ আমদানি বন্ধ হোক

যেসব কোম্পানির মেলামাইনযুক্ত গুঁড়োদুধ খেয়ে চীনে ছয় হাজার ২৪৪ শিশুর কিডনি মারাত্মকভাবে বিকল হলো, তারই দুটি কোম্পানির গুঁড়োদুধ বাংলাদেশে আমদানি হয়। তাছাড়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকায় নিউজিল্যান্ডের ফন্টেরা কোম্পানির দুধ বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে, যা আমদানি করে বাংলাদেশি বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করে। অন্যদিকে দেশের কিছু কোম্পানি সিসাযুক্ত নিম্ন মানের আমদানি করা গুঁড়োদুধ দিয়ে তরল দুধ বানিয়ে পাস্তুরিত দুধ হিসেবে বাজারজাত করছে। কিন্তু ঘাটতি মোকাবিলায় গুঁড়োদুধ আমদানি হলেও দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। প্রশিক্ষণ, আর্থিক সাহায্য ও ব্যবসায় নিরাপত্তার অভাবে দেশের অসংখ্য মানুষ ইচ্ছা থাকলেও দুগ্ধখামার গড়ে তুলতে পারছে না। খামারিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। গুঁড়োদুধ আমদানি এক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। অধিকন্তু আমদানি করা দুধ স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়ংকরভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে নিম্ন মানের দুধ আমদানি বন্ধ ও ধীরে ধীরে আমদানি শূন্য করে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে এবং দেশি কোম্পানির মান নিয়ন্ত্রণেও সরকারকে কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে।
আমদানি করা দুধে থাকা রেডিওঅ্যাকটিভ ম্যাটেরিয়ালে রয়েছে ক্যানসার-ঝুঁকি। বাংলাদেশে রেডিওঅ্যাক্টিভ ম্যাটারিয়ালের স্তর ৯৫-এর মতো ভয়ংকর পর্যায়ে। এসব দুধে পারক্লোরাইড, হেভি মেটালস, হাই নাম্বার অব কলিফর্ম, ব্যাকটেরিয়া ও মেলামাইন থাকে। এতে সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে দেশবাসীকে দুধ খাওয়ানোর ভেতর দিয়ে বিষ খাওয়ানোর মতো বোকামি আর কী হতে পারে! গত সাত বছরে উৎপাদন বেড়ে বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার ৭০ ভাগ দুধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। তাহলে কেন আমদানি শুল্ক এবার মাত্র পাঁচ শতাংশ বাড়ানো হলো? এতে আমদানিকারকরা লাভবান হবেন; কিন্তু দেশি দুগ্ধশিল্প ভবিষ্যৎহীন হয়ে পড়বে, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তেই থাকবে। বিপরীতে দেশি দুধের মানও অভিযুক্ত হয়েছে বারবার। দেশের বড় দুধ কোম্পানিগুলো যে পাবনা-সিরাজগঞ্জ থেকে দুধ সংগ্রহ করে, সেখানেই ছানার পানি, ক্ষতিকর স্কিম মিল্ক পাউডার, ফরমালিন, কাটার অয়েল, সোডা ও ননীর সঙ্গে কৃত্রিম সুগন্ধি মিশিয়ে নকল দুধ প্রস্তুত হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে সরকার উদ্যোগ নেবে বলে আশা রাখি। দেশি দুগ্ধশিল্প সমৃদ্ধ করতে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর বিকল্প নেই। দেশেই গুঁড়োদুধের অবকাঠামো গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে, কেবল উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় খামারকে প্রণোদনা দেওয়া অপরিহার্য।
এখন দেশি দুগ্ধশিল্পের ভবিষ্যৎ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে কর্তাজনরা অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে গুঁড়ো এবং তরল দুধের চাহিদা মেটাতে খামারি ও কোম্পানিকে প্রশিক্ষণ, প্রণোদনাসহ ব্যবসায় নিরাপত্তা দেবে এবং দেশি দুধের মান নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত তদারকির কাঠামো গড়ে তুলবে বলে আমরা আশা রাখি।

সর্বশেষ..