‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অন্য জেলা থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন’

বটতলা হাটের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন ইজারাদার মো. নুরুজ্জামান

হাটের ইতিহাস সম্পর্কে বলুন

মো. নুরুজ্জামান: হাটটি শত বছরের পুরোনো। শুনেছি ব্রিটিশ আমলে চালু হয়। সেই থেকে চলছে হাটের কার্যক্রম। শুরু থেকেই সব পণ্যের চাহিদা পূরণ করে চলছে ঐতিহ্যবাহী এ হাটটি।

হাটের প্রতি ক্রেতা আগ্রহের মূল কারণ বা বিশেষত্ব কী?

মো. নুরুজ্জামান: দেশীয় মাছ,

কাঁসা-পিতল, মাটির তৈরি গৃহস্থালি ও সব ধরনের শাকসবজি পাওয়া যায় এখানে। বিশেষত্ব, এখানে গরু-মহিষসহ গৃহপালিত পশু পাওয়া যায়। মূলত গবাদিপশুর জন্য বিখ্যাত এ হাট।

নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন?

মো. নুরুজ্জামান: নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো বলেই অন্য জেলা থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন। হাটের দিনে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির মতো কোনো ঘটনা আমার চোখে পড়েনি।

 হাটের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলুন

মো. নুরুজ্জামান: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই হাটের পরিধি বাড়ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় হাটে জায়গা কম। গরুর হাটে কম হলেও অন্য পণ্যের ক্রেতা ও বিক্রেতা বেড়েছে। বর্তমানে হাটের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সীমান্তে বিট খাটাল স্থাপন হওয়ায় এ হাটে তেমন গরু-মহিষ আনা হয় না।

আগের তুলনায় ক্রেতাবিক্রেতার সংখ্যা কমেছে, না বেড়েছে?

মো. নুরুজ্জামান: এ হাটে আগের তুলনায় ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এখানে প্রতিদিনই পাওয়া যায় সব ধরনের পণ্য। ফলে হাটের দিনে ক্রেতাদের তেমন ভিড় দেখা যায় না। সপ্তাহের দুদিন (শুক্র ও মঙ্গলবার) এ হাট বসে। এই দুদিনে রেডিমেড কাঠের ফার্নিচার ও গৃহপালিত বিভিন্ন ধরনের পশু পাওয়া যায়। এ কারণে হাটটি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগ্রহ আগের মতোই আছে। কারণ হাটবারে যেসব পণ্য পাওয়া যায়, তা অন্য সময় পাওয়া যায় না। আবার হাটের দিনে পণ্যের দাম তুলনামূলক কম থাকে। তাই অনেক মানুষের সমাগম হয়। বর্তমানে হাটে প্রায় দুই শতাধিক স্থায়ী ও হাজারের ওপর অস্থায়ী দোকান রয়েছে।

হাটে কী কী সমস্যা রয়েছে?

মো. নুরুজ্জামান: বর্তমানে হাটের নিজস্ব জায়গার পরিসর ছোট হয়ে গেছে। হাটের জায়গা কম থাকায় রাস্তার পাশে দোকান বসতে বাধ্য হন বিক্রেতারা। নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার দিনে পানি জমে থাকে; ফলে গরু হাটে ঢুকতে অসুবিধা হয়। এছাড়া হাটের জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানপাট বসেছে।

সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কী?

মো. নুরুজ্জামান: এ হাটের সমস্যাগুলো পৌরসভাকে অবহিত করা হয়েছে।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ সমস্যা-সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য আমাদের আশ্বস্ত করেছে।

হাট নিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কী?

মো. নুরুজ্জামান: আমি ইজারাদার ও স্থানীয় হিসেবে এ হাটটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে চাই। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এ হাটটি যেন যুগ যুগ ধরে জমজমাট থাকে, সে ব্যবস্থা করে যেতে চাই। ভবিষ্যতে হাটে ক্রেতাদের জন্য সব ধরনের সুবিধা-সুবিধা রাখতে চাই। হাটটি নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান মূল পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।