সম্পাদকীয়

নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হোক হজযাত্রা

 

ফ্লাইট মিস ও জেদ্দায় ইমিগ্রেশনের দীর্ঘসূত্রতা হজযাত্রীদের জন্য বড় সংকট। শিডিউল বিপর্যয়ে মৃত্যুর ঘটনাসহ জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন জটিলতায় হজযাত্রীদের খাদ্য ও টয়লেট সংকটে পড়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। এসব ঝামেলার মিটমাট করতে এবারে বাংলাদেশেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা হবে। আশা করা যায় সংকট উত্তরণে উদ্যোগটি কার্যকর হবে এবং শিডিউল বিপর্যয়ের ব্যাপারেও সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া হজ ফ্লাইট চলবে ২৯ জুলাই পর্যন্ত। শিডিউল বিপর্যয় এড়ানোর জন্য শত প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগ নেওয়ার পরও গত বছর ৮০০ হজযাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। ২০১৫ সালে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় ফ্লাইট বিপর্যয়ে একজন হজযাত্রী মারা যান। ২০১৪ সালে ১৩৩ যাত্রী যেতেই পারেননি, যদিও হজযাত্রীরা মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করে থাকেন। বলা হয়, বেসরকারি এজেন্সিগুলোর গাফিলতিতে সৃষ্ট ভিসা সংকটই এই শিডিউল বিপর্যয়ের মূল কারণ। অবশ্য গত বছরের শাস্তিপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো এবারে কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারায় এ সংকট সৃষ্টি না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন এমন শাস্তি প্রতি বছরই দেওয়া হয়। তবুও আমরা আশা করি এবারের পরিস্থিতি শুভই হবে। অন্যদিকে জেদ্দায় গিয়ে ইমিগ্রেশনের সংকটটি বেশ মারাত্মক রূপ নেয়। গত মৌসুমে ৩০০ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছে পাসপোর্টের পেছনে মোয়াল্লেম ও বাড়িভাড়ার তথ্যসংবলিত স্টিকার না থাকায় মারাত্মক বিপদে পড়েন। দেশের জন্য এটা কলঙ্কের বিষয়ও বটে। কেননা সৌদি কর্তৃপক্ষ কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশকে। কাজেই এ মৌসুমে বাংলাদেশের একটি সুরাহা প্রস্তাবে সৌদি সরকার তদন্ত-পরবর্তী একটি এজেন্সিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে স্টিকার থাক বা না থাক, তারা জেদ্দায় গিয়ে সমস্যায় পড়বেন না। তবে এক্ষেত্রে অবশ্য হজযাত্রীরা ফ্লাইট শিডিউলের ১০ ঘণ্টা আগেই রাজধানীর আশকানো হজক্যাম্পে রিপোর্ট করবেন। নাম উল্লেখিত হজযাত্রীরা এ সময়ে আঙুলের ছাপ, পাসপোর্ট স্ক্যান, ছবি পাঠানো, লাগেজে স্টিকার লাগানো, এয়ারলাইনসের ইমিগ্রেশন এবং সৌদি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করবেন। এজিন্সিগুলো তৎপর থাকবে। তবে ফ্লাইট বিপর্যয়ের প্রসঙ্গে শক্ত প্রতিশ্রুতি আসেনি। প্রতিমন্ত্রী এটাকে তুলনামূলকভাবে ছোট করে দেখেছেন এবং ফ্লাইট বিপর্যয় হলে আগে থেকে জানানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ফ্লাইট বিপর্যয় ছোট বিষয় নয়। বেশিরভাগ হজযাত্রীর ঢাকায় অবস্থানের প্রস্তুতি থাকে না।
ইমিগ্রেশন সংকট নিরসনে সরকারের এই উদ্যোগে হজযাত্রীরা নির্দেশনা মোতাবেক সহযোগী হবেন এবং ফ্লাইট বিপর্যয়ে কর্তৃপক্ষ আরও বেশি আন্তরিক হবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..