নিরাপদ খাদ্য আইন: বাস্তবায়নে সহায়তা করবে কারিগরি কমিটি

নাজমুল হুসাইন: ২০১৩ সালে প্রণীত নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে ওই কর্তৃপক্ষ খাদ্য বিষমুক্তকরণে তেমন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারছে না। এ অবস্থায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানে বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি কমিটি গঠনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।

খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ততার ব্যাপকতায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রণীত নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বাস্তবায়ন করে সরকার। আইনে ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’, ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ’, ‘কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি’ ও ‘কারিগরি কমিটি’ গঠনের কথা বলা ছিল।

‘নিরাপদ খাদ্য (কারিগরি কমিটি) বিধিমালা, ২০১৭’ নামে প্রকাশিত এ বিধি অনুসারে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ খাদ্য আইনের এখন প্রয়োজনীয়সংখ্যক কমিটি গঠন করতে পারবে। গঠিত এসব কমিটিতে খাদ্য বিষয়ে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। প্রতিটি কমিটিতে সদস্য থাকবেন সাত থেকে ৯ জন। এছাড়া একাধিক কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ ও ন্যূনতম ১০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রকাশিত বিধিমালায়। যারা খাদ্যে সব ধরনের বিষ, রাসায়নিকসহ জেনেটিক প্রযুক্তির ব্যবহার রোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সহায়তা প্রদান করবেন।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, খাদ্যসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে এসব বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে খাদ্যদ্রব্যে মিশ্রিত পদার্থ, খাদ্যসংশ্লিষ্ট স্বাদ-গন্ধযুক্ত পদার্থ এবং প্রক্রিয়াকরণ সহযোগী ও বস্তু, কীটনাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ, জেনেটিক্যালি সংশোধিত জীবাণু ও খাদ্য, জৈবিক ঝুঁকি, খাদ্য শৃঙ্খলে দূষিত বস্তু চিহ্নিতকরণে। এ-ছাড়া কমিটি মোড়ক পরিচিতি, নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ পদ্ধতিসহ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত আরও অন্যান্য বিষয়ে আইনি, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করবে।

এ-ছাড়া নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত কমিটির পরামর্শের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আরও প্রয়োজনীয়সংখ্যক কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কথা বলা হয়েছে বিধিমালায়। এসব ওয়ার্কিং গ্রুপ খাদ্যদূষণের কারণে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিরূপণ করবে। এ-ছাড়া তারা ভোক্তাসাধারণের ওপর জৈব ও রাসায়নিক ঝুঁকির হুমকি নিরূপণসহ দূষণ বা ক্ষতিকর অণুজীব নিয়ন্ত্রণের অনুশাসন, জীব ও খাদ্যে জেনেটিক প্রযুক্তি বা অন্য কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার চিহ্নিতকরণ, খাদ্যের নিরাপদ মান নির্ণয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি প্রয়োগ, খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ নজরদারি এবং সংকটকালীন জরুরি সাড়া প্রদান, আন্তসংস্থা সহযোগিতার ক্ষেত্র ও দায়দায়িত্ব সুনির্দিষ্টকরণ, সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণ মূল্যায়ন পদ্ধতি উদ্ভাবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা, খাদ্যদ্রব্যের স্বাস্থ্যবিধান ও পুষ্টিসংক্রান্ত ঝুঁকি নিরূপণ, খাদ্য গ্রহণজনিত কারণে ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, জৈবিক ঝুঁকির প্রাদুর্ভাব ও ব্যাপকতা চিহ্নিতকরণ, খাদ্যদ্রব্যে দূষিত বস্তুর মিশ্রণের প্রাদুর্ভাব ও ব্যাপকতা চিহ্নিতকরণসহ খাদ্যদ্রব্যে দূষণকারী বস্তুর অবশিষ্টাংশের প্রাদুর্ভাব ও ব্যাপকতা চিহ্নিতকরণে কাজ করবে।

পাশাপাশি এসব কমিটি দেশের খাদ্য পরীক্ষাগার নেটওয়ার্ক স্থাপন পরীক্ষণ পদ্ধতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, খাদ্যশিল্প ও খাদ্য ব্যবসা পরিচালনায় জনবল প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বাস্তবায়নের কৌশল, সংশ্লিষ্ট অংশীজন সচেতনতা ও সমন্বয় পদ্ধতি, নিরাপদ খাদ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, নিরাপদ খাদ্য কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়, আইনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ এবং নজরদারিসহ আরও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করবে।

বিধি মোতাবেক সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ন্যূনতম ১০ সদস্যের একটি আলাদা বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের কথা রয়েছে।

এদিকে পিউর ফুড রুলস, ১৯৮৭-এর যেসব বিধান এ বিধিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব বিধান এ বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে অপ্রযোজ্য হবে বলে বলা হয়েছে ওই প্রজ্ঞাপনে।