নির্বিঘ্ন হোক ঈদযাত্রা

প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল শুরু হয়েছে যথাসময়ে। এ প্রবণতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এটা হয়ে আসছে এবং হবে। একসঙ্গে এত মানুষ রাজধানী ছাড়ার সুফল-কুফল নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছে আর হচ্ছে। বোদ্ধা অনেকে এক সময় বলতেনÑমহাসড়কে দুর্বিষহ যানজট সহ্য করে দলে দলে মানুষের ঢাকা ত্যাগের দরকার কী; বিশেষত যেখানে এ মহানগরটি অব্যাহতভাবে জুগিয়ে চলেছে জীবনযাত্রার সব উপকরণ ও অনুষঙ্গ। তাদের কথা জলে গেছেÑএ কথা হলফ করে বলা যায় না। বরং এরই মধ্যে একদল ঢাকাবাসীর উদ্ভব হয়েছে, যারা নিজে থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে এক ঈদ ঢাকা আর অন্য ঈদ গ্রামের বাড়িতে উদ্যাপনে। এদের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। দেশে আরেক দল বিত্তবানও তৈরি হয়েছে, যারা ঈদের ছুটি উপভোগ করেন দেশে বা বিদেশে। সাধারণত ট্যুরিস্ট স্পট বেছে নেন তারা। সেসব গন্তব্যে পৌঁছানোর ভোগান্তি তাদের পোহাতে হয় না, এমন নয়। তবে সেটা তুলনামূলকভাবে কম। তাদের অনেকে ব্যবহার করেন আকাশপথ। সেক্ষেত্রে ভোগান্তি স্বভাবতই কম। তবে স্বীকার করতে হবে, সাত-আট বছর আগের তুলনায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি এখন কম। সেজন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারা যায় না। এটাও জোর দিতে বলা দরকার, ঈদের ছুটিতে পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই; বরং এক্ষেত্রে এখনও কাম্য পারফরম্যান্স থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি আমরা।
লক্ষ করা দরকার, দেশজুড়ে ছোট-বড় নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান। সড়ক, সেতু ও যোগাযোগমন্ত্রী যদিও কথা দিয়েছেন এরই মধ্যে যথাসম্ভব নির্বিঘ্ন করা হবে ঈদযাত্রা; প্রকৃত বাস্তবতা এড়িয়ে চলার সুযোগ কিন্তু নেই। বিশেষত ঢাকা-টাঙ্গাইল হাইওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে যানজটের তীব্রতা নিয়ে শঙ্কা না জেগে পারে না। ঈদের সময় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন; টিকিট নিয়ে কিছু অনিয়ম হয়, সেটাও সবাই জানি। এসব প্রতিবন্ধকতা আমলে নিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখবেন এমনটাই প্রত্যাশা। যাত্রীভোগান্তি হ্রাসে নজরদারি রাখতে হবে রেল আর নৌপথেও। সড়ক, নৌ ও রেল একেক পথে ভোগান্তির ধরন একেক রকম; ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জও একেক রকম। সেসব মাথায় রেখেই আগেভাগে উপযুক্ত কৌশল নির্ধারণ করা দরকার। কয়েক বছর ঈদের সময় যানজট হ্রাসে কম করে হলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আকাশপথ। একে ইতিবাচক পরিবর্তন বলব আমরা। প্রবণতাটি এটাও ইঙ্গিত করে, ঈদে ঘরমুখো মানুষ চায় দ্রুত, আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রা। ফলে এ সময়ে পরিবহন ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এ দুটো যাত্রাপথই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা। ঈদের ভিড়ে বিভিন্ন অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযান মনে রেখাপাত করে থাকলেও তাদের অপচেষ্টা পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে এমনটা কিন্তু বলা যায় না। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ফোকাস বা ক্লান্তির সুযোগও তারা নিয়ে থাকবে। ঘরমুখো মানুষ কিংবা ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে আসা রাজধানী ঘিরেও দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা থাকতে পারে। সবাই চাইবেন, এ সময়টায় পরিবহন ব্যবস্থাপনা ও মাদকবিরোধী অভিযানে শক্তি ব্যয় সত্ত্বেও জননিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোয় বাড়তি মনোযোগ দেবে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বোপরি সব মানুষের চাওয়া যাত্রা হোক যথাসম্ভব নির্বিঘ্ন, দ্রুত, হয়রানিমুক্ত এবং একই সঙ্গে যাত্রাপথ ও গন্তব্য থাকুক সব রকম অনিষ্ট থেকে মুক্ত।