নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব চীনের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের কারণে চীনের একটি সামরিক সংস্থা ও এর পরিচালকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর প্রতিবাদ জানাতে বেইজিংয়ে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর বিবিসি।
চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝিং জিগুয়াং মার্কিন রাষ্ট্রদূত টেরি ব্রানস্টাডকে তলব করে এ নিষেধাজ্ঞার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এর আগে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনা সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ সহযোগিতামূলক কাজ। যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহকারী শাখা ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের (ইডিডি) বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সম্প্রতি সংস্থাটি রাশিয়ার প্রধান অস্ত্র রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান রুসোবোরন এক্সপোর্টের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে চীন ১০টি এসইউ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান ও ২০১৮ সালে এস-৪০০ নামে ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়টির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শনিবার বলেন, চীনই একমাত্র দেশ যারা রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছে। এটা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কর্মকর্তা বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত রাশিয়ার ওপরে আরোপ করা হয়েছে, চীনকে লক্ষ করা হয়নি।
মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, ইউক্রেনে হামলা ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সাজা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিস থ্রু স্যাংকশন অ্যাক্ট-সিএএটিএসএ-কে ২০১৮ সালে আইনে পরিণত করে। কর্মকর্তা বলেন, চীনা সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক নয়। তবে বেইজিং মার্কিন আইন ভঙ্গ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি এতে মনোযোগ দেওয়া হবে, কারণ এ ধরনের লেনদেন ঠেকানোই আমাদের লক্ষ্য।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাফতরিক ইউচ্যাট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক নোটিসে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে মৌলিক নিয়মের ভয়ানক লঙ্ঘন, একটি পূর্ণ কর্তৃত্বের বহিঃপ্রকাশ এবং দুটি দেশ ও তার সামরিক বাহিনীর মধ্যকার সম্পর্কের মারাত্মক লঙ্ঘন। অতি শিগগির এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।