নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উ. কোরিয়ার কয়লা কিনছে দক্ষিণের কোম্পানি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: রাশিয়ান পণ্যের নামে উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা আমদানি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এতে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনার অভিযোগে গত বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ উত্তরের কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে কয়লা আমদানি কয়েছিলÑএমন ৯টি ঘটনা তদন্ত করছে সিউল কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ কোরিয়ার শুল্ক বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম না বললেও গত বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে অবৈধভাবে ৩৫ হাজার টন কয়লা আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছে। এসব কয়লার আর্থিক মূল্য ছয় দশমিক ছয় বিলিয়ন ওন বা পাঁচ দশমিক আট মিলিয়ন ডলার। কোরিয়া শুল্ক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার রহ সুক-হান বলেন, রাশিয়ার পণ্যের নামে এসব কয়লা প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করেছে।
২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর উত্তর কোরিয়া তার সর্বশেষ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যে কোনো স্থানে আঘাত হানা সম্ভব। সর্বশেষ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর পর দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর এক বছরে তৃতীয়বারের মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞায় দেশটির তেল সরবরাহ ৯০ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, পিয়ংইয়ংয়ের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার চীন ও রাশিয়া। দেশটি সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে চীনের কাছ থেকে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে পিয়ংইয়ং বছরে মাত্র পাঁচ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে পারবে। অপরিশোধিত তেল রফতানির ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। দেশটি বছরে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে পারবে। বৈদ্যুতিক সামগ্রী রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার বেশকিছু পণ্য রফতানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবে বিদেশে থাকা দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ১৫ জন পদস্থ কর্মকর্তার সম্পদ বাজেয়াপ্তের কথা বলা হয়েছে। এসব ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত উত্তর কোরিয়া নিজেদের ভাবমূর্তি বাড়াতে এবং এ নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে রাজি হন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।