বিশ্ব সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অস্ত্র কিনছে মিয়ানমার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে ভারত, চীন, রাশিয়া ও ইসরাইলের কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে মিয়ানমার। নিষেধাক্তা সত্ত্বেও সম্প্রতি তেল আবিবে অনুষ্ঠিত অস্ত্র প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন দেশটির সেনা কর্মকর্তারা। খবর: এএফপি।
গত সপ্তাহে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তেল আবিবে অনুষ্ঠিত অস্ত্র ও নিরাপত্তা সম্মেলনে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তারা ইউনিফর্ম পরে অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী এ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা নয় তাদের।
২০১৭ সালে ইসরাইল দাবি করেছিল গণহত্যার অভিযোগ থাকায় মিয়ানমারের কাছে তারা অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করেছে। কিন্তু ওই বছরেই মিয়ানমার নৌবাহিনীর কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে তারা।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) মতে, মিয়ানমারকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র সরবরাহ করছে চীন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ অস্ত্রের আমদানি হয়েছে চীন থেকেই। এসআইপিআরআই’র গবেষক সিমন উইজেম্যান জানান, সাঁজোয়া যান, সারফেস টু এয়ার মিসাইল প্রযুক্তি, রাডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ছিল এর মধ্যে। মিয়ানমারের অন্যতম বন্ধু রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শুইগু ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফর করেন এবং ছয়টি এসইউ-৩০ বিমান বিক্রি নিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। এদিকে আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে চীনকে টেক্কা দিতে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত করেছে ভারত। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যেও মিয়ানমার সরকারকে জলবিশুদ্ধকরণ সিস্টেম প্রদান করে ইসরাইল। সব মিলিয়ে খাতা-কলমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অস্ত্র কেনায় কার্যত কোনো বাধাই নেই মিয়ানমারের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সামরিক বৌদ্ধতন্ত্রের প্রচারে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে ‘সন্ত্রাসদমন’ অভিযান জোরালো করার আগের কয়েক মাস ধরে সেনাপ্রচারে সেই বিদ্বেষ জোরদার হয়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ। অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলে অমানবিক অত্যাচার। গণধর্ষণ ও গণহত্যার মতো ঘটনা হয়ে ওঠে স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। আপাতত বাংলাদেশের আশ্রয়ে আছে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী।
রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নানা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে মিয়ানমারকে। দেশটির সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এসব নিষেধাজ্ঞার পরও অস্ত্র কিনতে মিয়ানমার সেনাকে বেগ পেতে হচ্ছে না। তারা অস্ত্র কেনা অব্যাহতই রেখেছে।

সর্বশেষ..