নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে

রুবাইয়াত রিক্তা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ইতিবাচক গতিতে লেনদেন শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর অব্যাহত থাকেনি। এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রির চাপ বাড়লে সূচক নেমে যায়। সূচকের বড় ধরনের পতন না হলেও হঠাৎ করেই এক দিনে লেনদেন কমেছে ১৫৭ কোটি টাকা। সূচকের বড় পতন ঠেকিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের দরবৃদ্ধি। তবে হঠাৎ লেনদেন কমার কারণ হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে অনীহা। কারণ গত মঙ্গলবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত এক সম্মেলনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল হোসেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, তারা যদি পুঁজিবাজারে তাদের ভূমিকা যথযথভাবে পালন না করে তবে তাদের নামের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। এছাড়া আইপিওতে কোটা সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করাসহ তাদের নিবন্ধনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, পাবলিক ইস্যু রুলস-২০১৫ অনুসারে, আইপিওতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা কোম্পানিতে ৬০ শতাংশ এবং ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আসা কোম্পানিতে ৫০ শতাংশ কোটা সুবিধা পেয়ে থাকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। সাধারণত স্টক ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসইসি চেয়্যারম্যানের এই বক্তব্য লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। তবে লেনদেন পতনের কারণ যাই হোক না কেন পুঁজিবাজারকে ঠিক করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর ভূমিকা অব্যাহত রাখতেই হবে। কারণ আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ডে ট্রেডার ভূমিকার কারণেই পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হতে পারে না। তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ না করায় বাজারে সবসময় অস্থিরতা বিরাজ করে।
আগের দিনের ধারাবাহিকতায় গতকালও সবচেয়ে বেশি ২৭ শতাংশ লেনদেন হয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। তবে এ খাতে মাত্র ৩৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। সামিট পাওয়ারের ৫৯ কোটি টাকা লেনদেন হয় এবং দর বেড়েছে এক টাকা ১০ পয়সা। এছাড়া খুলনা পাওয়ারের ৫৭ কোটি ও ইউনাইটেড পাওয়ারের ৩৮ কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয় কোম্পানি দুটির। বস্ত্র খাতে ১৫ শতাংশ লেনদেন হলেও মাত্র ৪০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। নূরানী ডায়িং ও সায়হাম কটন দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। ড্রাগন সোয়েটারের ১৬ কোটি ও নূরানী ডায়িংয়ের ১৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়। প্রকৌশল খাতে ১১ শতাংশ লেনদেন হয়। এ খাতের বিবিএস কেব্লস ও সিঙ্গার বিডির সাড়ে ১২ কোটি টাকা করে লেনদেন হলেও দরপতন হয় কোম্পানি দুটির। ব্যাংক খাতে ৬০ শতাংশ ও আর্থিক খাতে ৫৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। তবে এ দুই খাতে লেনদেনের পরিমাণ খুবই সামান্য। ব্যাংক খাতে এক শতাংশ লেনদেন বেড়ে সাত শতাংশ হলেও আর্থিক খাতে তিন শতাংশ লেনদেন অপরিবর্তিত থাকে।