সম্পাদকীয়

নিয়মিত পরীক্ষণে নিশ্চিত হোক মানসম্পন্ন পণ্য

দেশে উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষণ বা বিশ্লেষণ এবং পণ্যের গুণগত মানের নিশ্চয়তা বিধান করে জাতীয় মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। অন্য অনেক জাতীয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে সংস্থাটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আস্থা রয়েছে। সাধারণ মানুষ অনেক সচেতন। কোনো পণ্য কেনার সময় এর মোড়কে মুদ্রিত উৎপাদনকারী বা বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রস্তুত ও মেয়াদ এবং বিএসটিআই’র অনুমোদন সূচক নম্বর ও লোগো প্রভৃতি খুঁটিয়ে দেখেন ভোক্তারা। বিএসটিআইর অনুমোদনহীন কিংবা অখ্যাত কোনো প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎপাদন বা বাজারজাত করা পণ্য পারতপক্ষে কেউ কেনেন না। বিএসটিআইর লোগো অপব্যবহার করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণাও হয় অনেক সময়। তাই বাজারের পণ্যের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। পণ্য যাচাইয়ের প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে খ্যাতনামা ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বহীনতা সম্পর্কে জানাতে পারে সাধারণ মানুষ।
গতকাল শেয়ার বিজের ‘৫২ ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য নিম্নমানের’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিএসটিআই’র প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পণ্যের পরীক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দেশের নামি কোম্পানি ব্র্যান্ডের আড়ালে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের পণ্য।
ইফতার ও সাহরির জন্য ব্যবহার হবে এমন ২৭ ধরনের খাদ্যপণ্যের ৪০৬টি নমুনা সার্ভিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বাজার থেকে সংগ্রহ করে বিএসটিআই। এর মধ্যে ৩১৩টির ফল পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫২টি নিম্নমানের পণ্য। এর মধ্যে দেশের নামিদামি ব্র্যান্ডও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
আমরা মনে করি, বিএসটিআই’র এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে দেশে শিল্পের বিকাশ ঘটবে, ভোক্তাদের কাছে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহে দায়িত্বশীল হবে উৎপাদক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান। দুঃখজনক হলো, নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করেছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলোর প্রতি রয়েছে গ্রাহকের আস্থা। বিক্রেতার পরামর্শ নয়, গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় চেয়ে নেন এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য। এমন যদি হতো, কোনো ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান খ্যাতনামা এ প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে পণ্য বাজারজাত করেছে, তাও নয়।
বিএসটিআই পণ্যের মান পরীক্ষা করেছে। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না-হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম কর্তৃক সেরা ব্র্যান্ডের পুরস্কার পাওয়া প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। উত্তীর্ণ না-হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চয়ই এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবে। গ্রাহকের অধিকার ঘোষিত মান ও ওজনের পণ্য পাওয়ার, যার জন্য তারা কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করেন।
ভোক্তাসাধারণকে বিভ্রান্তি ও হয়রানি থেকে রক্ষায় বিএসটিআইর কর্মতৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং মানহীন পণ্য বাজারজাতকারীরা কোনোভাবেই সরকারের প্রশ্রয় পাবে না বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..