নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়া ডিজিটাল জালিয়াতির সর্ববৃহৎ চক্র আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি নানা চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির একটি বড় চক্র আটক করেছে পুলিশ, যার মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের আটক করে। আটককৃতরা বিসিএস, ব্যাংকসহ সরকারি নানা চাকরির নিয়োগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতি করতেন বলে সিআইডি জানিয়েছে।
চক্রটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করত। আটক চারজনের কাছে প্রায় ১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।
গতকাল সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম। গ্রেফতারকৃতরা হলেনÑমো. ইব্রাহিম, আইয়ুব আলী ওরফে বাঁধন, মো. মোস্তফা কামাল, মনোয়ার হোসেন, নরুল ইসলাম, হাসমত আলী সিকদার, হোসনে আরা বেগম, গোলাম মোহাম্মদ বাবুল ও অলিপ কুমার বিশ্বাস।
নজরুল ইসলাম জানান, তাদের মধ্যে অলিপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারী। কয়েক বছরে তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে তিন কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন। ইব্রাহিম, মোস্তফা ও বাঁধন বিসিএসসহ সব নিয়োগ পরীক্ষায় অলিপের প্রধান সহকারী। এই চারজনের প্রায় ১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা পরীক্ষা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের ধরে যাচ্ছি। এজন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছি। অত্যন্ত সুকৌশল, ধৈর্য এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সর্ববৃহৎ এই চক্রটিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এই চক্রটি কয়েক বছর ধরে লাখো তরুণের স্বপ্নের চাকরি বিসিএস পরীক্ষাতেও জালিয়াতি করে আসছে। পাঁচ দিনের এক সাঁড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডিজিটাল ডিভাইস চক্রের মাস্টারমাইন্ড বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আয়ুব আলী বাঁধনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
এছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অভিযোগে রাজধানীর অগ্রণী স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক গোলাম মোহম্মদ বাবুল, অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেন মজুমদার এবং মো. নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই অভিযোগে ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম এবং পিয়ন হাসমত আলী শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল গ্রেফতারের সময় হাসমতের কাছে ওই দিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। এই ৯ জনসহ এ মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৭।
গ্রেফতারকৃত অলিপ, ইব্রাহিম, বাঁধন ও মোস্তফা জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের পর রাজধানীর আলিয়া মাদ্রাসা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের দুটি কক্ষে বসে তারা অভিজ্ঞদের দিয়ে সে প্রশ্নপত্র সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীর কাছে সরবরাহ করতেন।
তাদের মধ্যে ইব্রাহিম গত কয়েক বছরে বিসিএস, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতাধিক ব্যক্তিকে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতি দুটো চক্রকেই সমূলে চিহ্নিত করা গেছে। এই সুবিশাল চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার ফলে আমরা বিশ্বাস করি আনাগত দিনে ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা হ্রাস পাবে।