এসএমই

নীলফামারীতে বাদামের বাম্পার ফলন

নীলফামারীতে বাদাম চাষে ঝুঁকেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলেন, ধান আবাদে খরচ ও খাটনি দুটোই বেশি। ধান লাগানোর পর নানা দুশ্চিন্তা হয়। কেননা কয়েক বছর ধরে ধানের বাজারদর সুখকর নয়। এ কারণে অনেক কৃষক ধান আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এর পরিবর্তে বাদাম ও ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
ডোমার সদর ইউনিয়নের পূর্ব চিকনমাটি গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে চিনা বাদাম চাষ করেছি এক বিঘা জমিতে। ১১৫ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ঘরে ফসল তোলা যাবে। ধান আবাদ করে লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকা তোলাই সম্ভব হয় না। রশিদুলের মতো অনেক কৃষকই বোরো ধানের পরিবর্তে বাদামসহ অন্যান্য ফসল চাষে মনোযোগ দিয়েছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে বিগত কয়েক বছর বোরো আবাদে লোকসান হওয়ায় বাদাম ও ভুট্টা আবাদ করছেন উপজেলার ডোমার সদর, বামুনিয়া, বোড়াগাড়ী, জোড়াবাড়ী, ভোগডাবুড়ী, সোনারায় ও হরিণচড়া ইউনিয়নের অনেক কৃষক।
ডোমার উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার মাটি বেলে দো-আঁশ হওয়ায় বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। মাটির গুণগত দিক বিবেচনা করে কৃষকদের বাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
হরিণচড়া ইউনিয়নের পশ্চিম হরিণচড়া গ্রামের বাদাম চাষি আবদুল আজিজ বলেন, বাদাম চাষে খরচ কম, উৎপাদন ও বাজারদর ভালো। ফলে আমাদের আগ্রত বাড়ছে। একবার নিড়ানি ও সার প্রয়োগই যথেষ্ট। বাদাম চাষে তেমন খরচ নেই। এবারে আমি পাঁচ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছি। আশা করি ধানের তুলনায় বাদাম চাষে লাভবান হবো।
এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয় আট হাজার টাকা। এক বিঘায় বাদামের ফলন হয় আট থেকে ৯ মণ। প্রতি মণ তিন হাজার টাকা হলে ৯ মণ বাদমের দাম দাঁড়ায় দুই হাজার ৭০০ টাকায়। এতে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি লাভ হয় ১৯ হাজার টাকা।
বাদাম চাষি নূর আলম বলেন, চিনা বাদাম-৮ জাত চাষ করে ১২০ দিনে ঘরে তোলা যায়। এতে ভালো ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ৯ থেকে ১০ মণ ফলন পাওয়া যায়। এর দানা ভালো। দামও তুলনামূলক বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, বাদাম চাষে সেচের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। রোগ-বালাই কম। কীটনাশক খরচ কম। সব মিলিয়ে বাদাম চাষ কৃষকের জন্য আশীর্বাদ। তারা বলেন, আমরা প্রদর্শনী প্লট করে আবাদ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ ফসল ১১০ থেকে ১১৫ দিনে ঘরে তোলা যায়। জেলায় ২০১৮-১৯ মৌসুমে ১১৩০ হেক্টর জমি ও ২০১৯-২০ মৌসুমে ১১১২ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ করা হয়েছে।
ডোমার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাফর ইকবাল বলেন, গত কয়েক বছর ধরে কৃষকদের মাঝে বাদাম চাষের আগ্রহ বেড়েছে। ভালো দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। তারা এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। ডোমারে মাটির গুণগতমান ভালো তাই এখানে বাদামের চাষ ভালো হয়ে থাকে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ করা হয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা বাদাম চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এতে খরচ কম। ফলন ভালো। সারা বছরই এর দাম পাওয়া যায়। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কষি কর্মকর্তারা বাদাম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী

 

সর্বশেষ..