সারা বাংলা

নীলফামারীতে বিপদসীমার ওপর তিস্তার পানি ভাঙনের শঙ্কায় বাঁধ

প্রতিনিধি, নীলফামারী: পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজের সবক’টি সøুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় পানি চার সেন্টিমিটার কমলেও বেড়েছে বাঁধ ভাঙনের শঙ্কা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল শুক্রবার তা কমে ২৪ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়। এরই মধ্যে জলঢাকা উপজেলার তিস্তাতীরবর্তী ১৫টি চর ও চরগ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন প্লাবিত গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ডিমলা উপজেলার ঝাড়সিংশ্বর গ্রামের ওয়াজ উদ্দিন জানান, গত মঙ্গলবার ভোর থেকে তিস্তার পানি হু-হু করে বাড়তে শুরু করেছে। জলঢাকায় শৌলমারী ইউনিয়নের আশরাফ আলী জানান, পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে আছেন। বাঁধ ভাঙলে শুধু বানপাড়া নয়, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে। এলাকাবাসী কাঠ, বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী জোনের এসডি হাফিজুল হক জানান, বানপাড়া বাঁধ ৬০ মিটারের মতো ভেঙে গেছে। ওই ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটির স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করা হবে আশা করা যায়।
ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, উপজেলা পরিষদ থেকে বাঁধ রক্ষায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অচিরেই এর কাজ শুরু করা হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তারা শতভাগ সতর্কাবস্থায় আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের ৪৪টি সøুইস গেট খুলে রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ..