দুরে কোথাও

নুনগোলা মসজিদ

মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনেক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এমনই এক দর্শনীয় স্থান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বারোবাজার। কালের বিবর্তনে টিকে থাকার পাশাপাশি গৌরবভরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এখানকার কীর্তিগুলো। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নুনগোলা মসজিদ। এ বিষয়ে জানাচ্ছেন মো. হাসানুজ্জামান পিয়াস

নুনগোলা মসজিদ বারোবাজার ইউনিয়নের হাসিলবাগ গ্রামে। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ এটি। স্থানীয় অনেকেই একে ‘লবণগোলা’ মসজিদ বলে থাকেন।

নুনগোলা মসজিদের আকৃতি বর্গাকার। বারোবাজারে আবিষ্কৃত অন্য এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। মসজিদের পুবে রয়েছে একটি বড় পুকুর। আয়তকার এ পুকুরটি ‘নুনগোলা দিঘি’ নামে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে প্রত্নতত্ত্বের সন্ধানে বারোবাজারে খননকাজ হলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এ মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়।

অর্ধবৃত্তকায় আকৃতির তিনটি মেহরাব রয়েছে নুনগোলা মসজিদের কিবলা দেয়ালে। মেহরাবগুলোয় পোড়ামাটির ফলকে জ্যামিতিক নানা ধরনের নকশা চোখে পড়ে। এছাড়া মসজিদের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি কক্ষ দেখা যায়। সম্ভবত মসজিদ নির্মাণকালীন সময়ে কক্ষটি তৈরি করা হয়েছিল। কক্ষটির পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে দুই দশমিক পাঁচ মিটার প্রশস্ত একটি প্রবেশপথ। মসজিদের বাইরের দেয়ালে দিগন্ত রেখাকৃতির ছাঁচে গড়া নানা ধরনের নকশা রয়েছে। মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের এক নয়নাভিরাম ও অনন্য উদাহরণ।

রাজধানী থেকে খুব সহজে এখানে যাওয়া যায়। যশোর থেকে বারোবাজারের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার। রাজধানী থেকে বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাসে চড়ে সরাসরি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পৌঁছানো সম্ভব। ঝিনাইদহ হয়ে কালীগঞ্জ যাওয়ার দূরপাল্লার বাসের মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ লাইন, দর্শনা ডিলাক্স, চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স, রয়েল ও সোনার তরী। চাইলে ট্রেন কিংবা বিমানযোগেও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রথমে যশোরে নামতে হবে। যশোর থেকে সরাসরি বাস বা সিএনজি অটোরিকশায়ও বারোবাজার যেতে পারেন।

 

 

সর্বশেষ..