নোট প্রত্যাহারে ভারতের চা শিল্পে সংকট

শেয়ার বিজ্ ডেস্ক: ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট প্রত্যাহারের পর ভারত সরকারের জারি করা বিভিন্ন রকম নির্দেশনার কারণে দেশটির চা শিল্প সমস্যার কবলে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চা বাগানগুলোতে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া নিয়ে নতুন সংকটের আশঙ্কা করছেন চা শিল্পের মালিকরা। খবর ইকোনমিক টাইমস।

চা শিল্প মালিকদের দাবি, অনেক ভোগান্তির পর কিছু বাগানের শ্রমিকদের অক্টোবর ও নভেম্বরের প্রথম ১৫ দিনের বেতন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন নগদ অর্থের অভাবে এবং কিছু ব্যাংকের অসহযোগিতায় ফের বকেয়া বেতনের বোঝা বাড়ছে বাগান মালিকদের। যা থেকে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়ানোর আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (আইটিএ) জানিয়েছে, চা বাগানগুলোর সঙ্গে লেনদেন রয়েছে এমন ব্যাংকগুলো নিয়ে গত ২১ নভেম্বর রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বাগানগুলোর মূল ব্যাংকই বেতনের টাকা দেওয়ার দায়িত্ব নেবে। ১৫ দিন অন্তর বাগানের প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ টাকা তুলতে পারবেন। এবং প্রতিটি বাগানের মোট এলাকার (হেক্টরে) সঙ্গে ২ দশমিক ৫ এবং এক হাজার ৪০০ রুপি গুণ করে যে-অঙ্ক মিলবে, প্রতি ১৫ দিনে ওই বাগানটি সর্বোচ্চ সেই রুপিই তুলতে পারবে।

আইটিএয়ের দাবি, এ নির্দেশের জেরে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আইটিএ কর্মকর্তা অরিজিৎ রাহা এবং সুমন্ত্র গুহঠাকুরতা জানান, ধরা যাক একটি বাগানের লেনদেনের ব্যাংক ‘ক’। যেটির শাখা হয়তো কলকাতায় বা শিলিগুড়িতে। কিন্তু কাছাকাছি এলাকায় বাগানটির অ্যাকাউন্ট রয়েছে ‘খ’ ব্যাংকে। তাদের অভিযোগ, ‘খ’ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে অর্থ থাকলেও তা থেকে অর্থ তুলতে পারছে না বাগানটি। তাদের বলা হচ্ছে, অর্থ দেবে ‘ক’ ব্যাংক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়তো ওই ব্যাংকের কোনো শাখা বাগানের আশপাশে নেই। আবার অনেক সময়ে আরবিআই বা রাজ্যের কাছ থেকে এমন কোনো নির্দেশ পায়নি বলে ‘ক’ ব্যাংকও বাগানকে অর্থ দিতে চায়নি। ফলে দুই ব্যাংকে দৌড়দৌড়ি করতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা বাগান কর্তৃপক্ষের। কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে আলোচনার পরে হয়তো কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরবিআই-এর নির্দেশের কথা মানলেও শেষে বলেছে, এখন অর্থ নেই। অরিজিৎ রাহা জানান, এ নিয়ে তারা চিঠি দিয়েছেন অর্থ সচিব এবং টি বোর্ডকে।

এখানেই শেষ নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ভোগান্তি চরম মাত্রায় পৌঁছেছে উত্তরঙ্গের কিছু চা বাগানে।

সুমন্ত্র গুহঠাকুরতা অভিযোগ, বেতন দিতে কী পরিমাণ অর্থ লাগবে তার প্রমাণ দেওয়ার জন্য বাগানগুলো কর্মীদের ‘মাস্টার রোল’ দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কিছু ব্যাংক এখন কর্মীদের সচিত্র পরিচয়পত্রও দাবি করছে। না-হলে বাগানগুলোর হাতে বেতনের অর্থ দিতে চাইছে না তারা।

তিনি বলেন, অনেকেরই পরিচয়পত্র না-ও থাকতে পারে। কিংবা বাগানের খাতায় ডাক-নামও লিখিয়ে থাকেন অনেকে। পরিচয়পত্রে পুরো নাম থাকে। নামের পার্থক্যের জন্য আবার নতুন করে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, বাগানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের অক্টোবরের মাসিক বেতন এবং নভেম্বরে প্রথম ১৫ দিনের জন্য শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়া হয়েছে আপাতত। এখনও নভেম্বরের অর্ধেক মজুরি বাকি। তিনি বলেন, ‘দ্রুত নগদের জোগান না বাড়ালে কর্মী-শ্রমিকদের বেতনে ফের বিপুল বকেয়া পড়বে।’

সর্বোচ্চ অর্থ উত্তোলনের যে সীমা আরবিআই বেঁধে দিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অরিজিৎ রাহা বলেন, ধরে নেওয়া হচ্ছে, হেক্টরপ্রতি বাগানে ২ দশমিক ৫ জন কাজ করেন। প্রকৃতপক্ষে যা বহু বাগানে অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে ওই সূত্র মেনে চললে ওই বাগানগুলো এমনিতেই চাহিদার চেয়ে কম টাকা পাবে।

সাধারণভাবে বাগানের শ্রমিকদের সপ্তাহান্তে মজুরি দেওয়া হয় নগদে। যারা প্রশাসনিক কাজে যুক্ত সেই কর্মীরা মাসের বেতন পরের মাসের গোড়ায় পান। পুরোনো নোট বাতিলের জেরে নগদ অর্থে সংকটে সকলেরই বেতন আটকে আছে।