নোয়াখালীতে জৌলুস হারাচ্ছে নববর্ষের হালখাতা

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: নোয়াখালীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চৌমুহনীর ব্যবসায়ীদের হালখাতা উৎসব ক্রমেই ভাটার পথে। সেকাল থেকে প্রতিটি নতুন বছরে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের হিসাব-নিকাশ নতুনভাবে সংগৃহীত রাখতে লাল খাতা ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা। কয়েক বছর আগেও জেলার চৌমুহনীর প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হালখাতা উৎসব সামনে রেখে লাল খাতা সংগ্রহেরও ধুম পড়ত। একই চিত্র দেখা যেত পুরো জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় পাল্টে গেছে এ চিত্র।
আগে ব্যবসায়ীরা একটিমাত্র লাল খাতায় তাদের যাবতীয় হিসাব লিখে রাখতেন, যা হালনাগাদ করা হতো বৈশাখের প্রথম দিনে। কিন্তু বর্তমানে খাতার হিসাব চলে গেছে কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে। এমনকি মৌখিক লেনদেনও চলছে ব্যাংকে। এসব কারণে হালখাতার জন্য ব্যবহƒত লাল খাতাও এখন আর তেমনটা বিক্রয় হয় না। চৌমুহনীসহ জেলার কয়েকটি পাইকারি বাজার ঘুরে হালখাতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো তোড়জোড় চোখে পড়েনি।
চৌমুহনীর একজন বড় ব্যবসায়ী নজির আহমদ। তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনেরও সদস্য। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও এখানে সব ধরনের ব্যবসায়ীরা হালখাতা নিয়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠতেন। নববর্ষের এক থেকে দুই সপ্তাহ আগ থেকে বাজারে নিজের প্রতিষ্ঠানকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ধুম পড়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে এসব আর নেই বললেই চলে। তবে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী লাল কাপড়ে বাঁধানো খাতায় এখনও হালখাতার রেওয়াজ ধরে রেখেছেন। তবে প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে দেশ যতই উন্নত হোক না কেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হালখাতা উৎসব ধরে রাখা উচিত।
চৌমুহনীর প্রবীণ ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন বলেন, হালখাতা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এটি ধরে রাখতে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।
চৌমুহনীর অন্যতম ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, প্রায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই আগে নতুন বছরের প্রথম দিনে হালখাতা খোলা হতো। এ সময় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে নতুন করে প্রাণ পেত। প্রতিটি দোকান পরিণত হতো মিলনমেলায়। কিন্তু বর্তমানে এ ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নোয়াখালী চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জাবেদ হালখাতা প্রসঙ্গে বলেন, বাবা-চাচাদের কাছ থেকে হালখাতা সম্পর্কে অনেক কিছুই শুনেছি। বিগত কয়েক বছর আগেও দেখা গেছে হালখাতার কার্যক্রম। কিন্তু সে দৃশ্য ক্রমেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। পাইকারি বাজারেও এখন আর বাকিতে তেমন একটা লেনদেন হয় না বলেই হালখাতা ক্রমেই বিলুপ্তির পথে বলে তার ধারণা।