সারা বাংলা

নোয়াখালীতে সড়ক দখল করে ভাঙাড়ি ব্যবসা

আকাশ মো. জসিম, নোয়াখালী: নোয়াখালী সদর উপজেলার সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড ও প্রধান সড়কের লিংক রোডটি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভাঙাড়ি ব্যবসা। ফলে এ সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ ছাড়াও যানবাহন চলাচলে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
জানা যায়, সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড-প্রধান সড়কের লিঙ্ক সড়কের গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৩ সালে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী সড়ক ও জনপথ বিভাগকে তাগাদা দিয়ে দ্রুত সংস্কার ও প্রসারিত করার ব্যবস্থা করেন। এ সময় আশা করা হয়েছিল এ সড়কের কারণে সোনাপুর জিরোপয়েন্ট ও বাসস্ট্যান্ডের মুখে যানজট অনেকটা কমে যাবে। অর্থাৎ সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে গাড়িগুলো ঢুকবে জিরোপয়েন্ট হয়ে, আর বের হবে লিংক রোড দিয়ে। বাস্তবতায় সড়ক সংস্কার এবং চড়া হয়েছে ঠিকই; কিন্তু যে যানজটকে মাথায় রেখে লিংক রোডটি করা হয়েছে তার সুফল মিলছে না ব্যবসায়ীদের কারণে।
সরজমিনে দেখা যায়, জিরোপয়েন্টে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটো ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা যত্রতত্র রাখা হয়েছে। যেখানে-সেখানে স্ট্যান্ড করার কারণে যানজটে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলছে। অপরদিকে বাসস্ট্যান্ডের মুখে অর্থাৎ লিঙ্ক রোডের মাথায় যত্রতত্র গাড়ি এবং সড়কের ওপর স্তূপ আকারে ভাঙাড়ি মালপত্র রাখা হচ্ছে।
এছাড়াও এসব ভাঙাড়ি মালামাল রাস্তার ওপর ফেলে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে সোজা অথবা চ্যাপ্টা করার কারণে সড়কের দীর্ঘস্থায়িত্বে আঘাত পড়ছে। আর এসব ভাঙাড়ি পণ্যের ট্রাক সড়কে দাঁড় করিয়ে লোড-আনলোড করার সময় যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে। যার কারণে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পণ্য ও যাত্রীবাহী গাড়িসহ সাধারণ জনগণ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের বহনকারী গাড়িগুলোকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় ভাসানচরের অভিমুখে চলাচলকারী সেনাবাহিনীর গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যেতেও দেখা গেছে।
সোনাপুরে লিংক রোড়ে বেশকিছু ভাঙাড়ি দোকান গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে এসব দোকানের কার্যক্রম। এসব ভাঙাড়ি দোকানের সঙ্গে জড়িতরা বেশিরভাগই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত। অনেক সময় টোকাই জাতীয় কিছু লোক মানুষের বাসাবাড়িতে ঢুকে চুরি করা ভাঙাড়ি মালপত্র দোকানগুলোতে বিক্রি করে। সুযোগ বুঝে এরা মানুষের ঘরে ঢুকে চুরিও করে থাকে। এসব টোকাইরা বিভিন্ন স্থান থেকে লোহালক্কড় চুরি করে থাকে। বিশেষ করে রেললাইনের নাট-বল্টুসহ ক্ষেত্রেবিশেষে সিøপার পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে আসে। কথিত আছে এসব চুরির সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত জেলায় অবস্থিত ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীরা।
জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দখল করে প্রকাশ্যে দিবালোকে ভাঙাড়ি ব্যবসা করে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। যা সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। আর ভাঙাড়ি দোকানের মালপত্র ও সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের কারণে জিরোপয়েন্ট থেকে আসা ছোট ছোট যানবাহনগুলো রশিদ কোল্ডস্টোরের মুখে ডানে বাঁক নিতে গেলেই দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা থেকে কুড়িয়ে আনা এসব ভাঙাড়ি মালাপত্র পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি। কারণ বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতাল থেকে কুড়িয়ে আনা প্রাণঘাতী ছোঁয়াচে রোগ সম্বলিত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের খালি ক্যানসহ বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা থেকে আনা প্লাস্টিক সামগ্রীর জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সে সঙ্গে আবাসিক এলাকায় ও রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা এসব ভাঙাড়ি দোকান থেকে ছড়ানো রোগ-জীবাণু মানুষের শরীরেও ঢুকে মানুষকে অসুস্থ করে তুলছে।
নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যা খান সোহেল জানান, এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবেন।

সর্বশেষ..